বর্ষার পরেই রাজ্যে আবার বসছে জনকল্যাণ শিবির, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য জুড়ে আবারও শুরু হতে চলেছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। প্রথম পর্বের বিপুল সফলতার পর এবার দ্বিতীয় পর্বের সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্ষাকাল শেষ হলেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুনরায় এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করার জোরালো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে বড় পুরসভাগুলোর ওয়ার্ড ভিত্তিক এলাকা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই ক্যাম্প করার জন্য সাধারণ মানুষের তরফ থেকে ব্যাপক অনুরোধ আসছে। জনগণের সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই বর্ষার পরপরই দ্বিতীয় দফায় মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।
আবেদনের পাহাড়ে রেকর্ড ও প্রথম পর্বের অভিজ্ঞতা
সদ্য সমাপ্ত প্রথম পর্বে চার দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে রাজ্য জুড়ে মোট ৪,০৯৪টি জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত এই শিবির চলার কথা থাকলেও জনগণের সুবিধার্থে এর সময়সীমা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছিল। এই চার দিনে রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় ৮ লক্ষাধিক এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে প্রায় ২২ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে, যা এক প্রকার রেকর্ড।
তবে প্রথম দিন ফর্ম বিলি করা নিয়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বতন সরকারের আমলে ছাপানো কিছু প্রকল্পের ফর্মে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকার কারণে প্রথম দিন সেগুলো বণ্টন করা যায়নি। অবশ্য দ্বিতীয় দিন থেকেই নতুন ফর্মের মাধ্যমে দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করা হয়। প্রথম দিনের এই সাময়িক ঘাটতি পুষিয়ে দিতেই শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের শাসনক্ষমতায় বড় পরিবর্তনের পরেও সাধারণ মানুষকে নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না করার এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগের সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির আদলেই বর্তমান বিজেপি সরকার এই ‘জনকল্যাণ শিবির’ চালু রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি সরকারি দপ্তরে নিজেদের আবেদন পৌঁছে দিতে পারছেন। এর ফলে গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষেরা যেমন দ্রুত স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলোর আওতায় আসতে পারবেন, ঠিক তেমনি মাঠপর্যায়ে সরকারের জনভিত্তিও আরও মজবুত হবে।
