বাঁধ যখন মারণফাঁদ, চিনের এক ভুলেই কি মুছে যাবে তিন শহর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংৎজির জল শাসন করতে চিনের তৈরি বিশ্বের বৃহত্তম ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধটি এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩,৭০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ১৭ বছর ধরে তৈরি এই বিশালাকার পরিকাঠামোটি ভেঙে পড়লে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর বুক থেকে চিনের তিনটি বড় শহর মুছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে জলস্রোতের প্রথম আঘাতেই প্রায় ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পশ্চিমা দুনিয়ার এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে বেজিং।
বাঁধের কাঠামোয় ফাটল ও ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বাভাস
২০২০ সালে কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে প্রথম বার মার্কিন ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ দাবি করেন, বিপুল জলরাশির চাপে ‘থ্রি গর্জেস’ বাঁধের মূল কাঠামোর একাংশ ধীরে ধীরে বেঁকে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১.৪ মাইল দীর্ঘ এবং ১৮৫ মিটার উঁচু এই বাঁধটি যদি কোনো কারণে ভেঙে যায়, তবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে ২০ তলা অট্টালিকার সমান উঁচু জলের ঢেউ ধেয়ে আসবে। এই ধ্বংসাত্মক প্লাবনের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে ইলিং জেলার সান্ডৌপিং ও তার আশপাশের এলাকা। পরবর্তী ছয় ঘণ্টার মধ্যে ১.১ কোটি জনসংখ্যার ইউহান শহরকে ভাসিয়ে সেই জলরাশি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিনের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর সাংহাইয়ে আঘাত হানবে, যা সম্পূর্ণ সলিলসমাধির মুখে পড়তে পারে।
আহ্নিক গতির পরিবর্তন ও অতীত শিক্ষা
বিজ্ঞানীদের মতে, এই বাঁধের বিপুল জল ধারণক্ষমতার কারণে পৃথিবীর আহ্নিক গতি সামান্য কমেছে এবং দিনের দৈর্ঘ্য ০.০৬ মাইক্রোসেকেন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। নাসা ২০০৫ সালে জানিয়েছিল, এই বাঁধের জলের চাপে পৃথিবী আগের চেয়ে কিছুটা ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। বাঁধটি ভেঙে পড়লে চিনের অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও বেজিং প্রশাসনের কাছে বাসিন্দাদের সরানোর মতো কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নেই। এর আগে ২০২৩ সালে লিবিয়ার দেরনা শহরে ঘূর্ণিঝড় ‘ড্যানিয়েল’-এর জেরে জোড়া নদীবাঁধ ভেঙে রাতারাতি গোটা শহর মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার নজির রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থ্রি গর্জেস বাঁধের ক্ষেত্রে বিপর্যয় ঘটলে তা লিবিয়ার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে।
