বাংলাদেশে মহামারি আকারে ছড়াচ্ছে হাম, টিকাকরণে ব্যর্থতার অভিযোগে কাঠগড়ায় প্রশাসন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত দুই মাস ধরে চলা এই জনস্বাস্থ্য সংকটে একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৪৫১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা স্পষ্ট হয় গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানেই, যেখানে একদিনেই প্রাণ হারিয়েছে আরও ১২ জন শিশু। মৃতদের মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় ও সংক্রমণের চিত্র
দেশের স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সংকটের শুরু মূলত গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে এক হাজার ১৯২ জন শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১১১ জন শিশুর শরীরে চিকিৎসকরা নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। বাকি শিশুদের শরীরেও তীব্র উপসর্গ থাকায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।
টিকা কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং বিপর্যয়ের কারণ
হঠাৎ করে হামের এমন ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের পেছনে দেশের টিকাকরণ কর্মসূচির চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশের চিকিৎসক সংগঠনগুলোর সরাসরি অভিযোগ, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার টিকাকরণ অভিযানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হলেও সময়মতো টিকা প্রদানের মাধ্যমে এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমানো সম্ভব। কিন্তু গত কয়েক মাসে নিয়মিত টিকাকরণ কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় বিশাল সংখ্যক শিশু সুরক্ষাবলয়ের বাইরে রয়ে গেছে। যথাযথ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অভাব এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা
চিকিৎসকদের মতে, এখনই যদি দেশব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বা জরুরি টিকাকরণ অভিযান শুরু করা না হয়, তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে পারে। হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে, যা পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা পুষ্টিহীনতার মতো জটিলতা তৈরি করে আরও বেশিসংখ্যক শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে দেশের সামগ্রিক শিশু স্বাস্থ্য খাত এক দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর সংকটের মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
