বাংলায় দোরগোড়ায় জনগণনা, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আজ নবান্নে হাইপ্রোফাইল বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জনগণনার কাজ দ্রুত শুরু করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিন কয়েক আগেই স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে এই সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছিল। এবার প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে আজ, শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলাশাসকদের ইতিমধ্যেই ‘প্রিন্সিপাল সেন্সাস অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে এবং এই বিশেষ সম্মেলনে তাঁদের জনগণনার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অ্যাপ ও পোর্টালে ডিজিটাল বিপ্লব
এবারের জনগণনায় প্রযুক্তির ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হবে, যার নাম ‘এইচ এল ও’ (HLO)। এই অ্যাপের মাধ্যমেই মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই ও সংগ্রহের মূল কাজটি করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এছাড়া সাধারণ মানুষ যাতে নিজেরাই নিজেদের পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারেন, তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর প্রতিটি পরিবারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘সেল্ফ-এনুমারেশন আইডি’ তৈরি হবে। পরবর্তীতে তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই আইডি মিলিয়ে তথ্য চূড়ান্ত করবেন।
যাঁরা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য জমা দিতে পারবেন না বা অনলাইন ব্যবহারে অক্ষম, তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত জনগণনার মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এছাড়া প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে থাকা যেকোনো জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে চালু করা হচ্ছে একটি বিশেষ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর, যা হলো ১১৮৫।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
করোনা মহামারি ও পরবর্তী নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশ তথা রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে জনগণনা থমকে ছিল। সঠিক জনপরিসংখ্যানের অভাবে সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য সরকার সঠিক জনসংখ্যা, জনবিন্যাস এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার একটি নিখুঁত চিত্র হাতে পাবে।
ডিজিটাল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার ফলে সময় যেমন অনেক সাশ্রয় হবে, তেমনই তথ্যের নির্ভুলতা বজায় থাকবে এবং জালিয়াতির সুযোগ কমে যাবে। এই প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।
