“বাংলায় বন্ধ হবে সব অবৈধ মাদ্রাসা, মিলছে না কোনো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার!” দাবি বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পরপরই রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এবার রাজ্যজুড়ে সক্রিয় থাকা সমস্ত বেসরকারি ও কথিত অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের পর রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছেন, এটি তাঁদের দলীয় কর্মসূচিরই একটি অংশ। তাঁর দাবি, বাংলায় যত সাহায্যবিহীন ও অবৈধ মাদ্রাসা রয়েছে, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে এই অভিযানকে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, এটি কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমস্ত ধরনের বেআইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান। সজল ঘোষ আরও মন্তব্য করেন যে, মাদ্রাসা থেকে কোনো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায় না। তাই তাঁদের বিরোধিতা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নয়, বরং কেবল অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে।
রাস্তায় নামাজ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধের পরিকল্পনা
অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের পাশাপাশি খোলা জায়গায় বা রাস্তায় জনসাধারণের নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার বিষয়েও সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষ মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ুক, কিন্তু রাস্তায় নামাজ পড়া বরদাস্ত করা হবে না। কলকাতার রেড রোড এলাকায় অতীতে যেভাবে নামাজ পড়া হতো, এখন থেকে আর সেই পরিস্থিতি দেখা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে রেড রোডে হওয়া গণজমায়েতের কারণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যাহত হতো এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতো।
তুষ্টিকরণের অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
সরকারের এই সব পদক্ষেপের মধ্যেই কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারির একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি প্রকাশ্য জনসভায় দাবি করেছেন, আগামী পাঁচ বছর তিনি কেবল তাঁদের জন্যই কাজ করবেন যারা তাঁকে ভোট দিয়েছেন। কোনো মুসলিম ভোট তিনি পাননি উল্লেখ করে তিনি জানান, মুসলমানদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না বা কোনো শংসাপত্র জারি করবেন না। নিজের এই মন্তব্যে অনড় থেকে একে ‘শতভাগ তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ বলেও অভিহিত করেন তিনি।
যদিও অবৈধ মাদ্রাসা বা রাস্তায় নামাজ বন্ধের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তবে ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কদের এই সব মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র রূপ নিয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে শাসক দল একে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বেআইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরছে।
