বাংলায় লাগু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, না জানিয়ে লিভ-ইনে থাকলেই ২৫ হাজার জরিমানা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও আসামের পর এ বার চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গেও চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)। রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আইন কার্যকর হলে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, জমি-সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি একক আইনি ব্যবস্থা চালু হবে। এর ফলে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন বা পার্সোনাল ল’-এর কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
আইনের মূল দিক ও লিভ-ইন সম্পর্কের কড়াকড়ি
প্রস্তাবিত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একাধিক বড় ধরনের বদল আসতে চলেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সব ধর্মের মানুষের জন্য বহুগামিতা বা বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি, মুসলিম সমাজসহ সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এই আইনের অন্যতম আলোচিত দিক হলো ‘লিভ ইন’ সম্পর্কের আইনি নিয়ন্ত্রণ। এখন থেকে কোনও নারী-পুরুষ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে চাইলে তা পুলিশ বা জেলা আধিকারিকদের জানানো বাধ্যতামূলক। এমনকি সঙ্গীদের বয়স ২১ বছরের কম হলে বাবা-মায়ের সম্মতির প্রয়োজন হবে। এই নিয়ম অমান্য করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। তবে এই ধরনের সম্পর্কে থাকাকালীন কোনও সন্তানের জন্ম হলে সে আইনিভাবে বাবা-মা উভয়ের সম্পত্তিরই বৈধ উত্তরাধিকারী হবে। এ ছাড়া, সব ধর্মের ক্ষেত্রে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সামাজিক প্রভাব ও বিতর্কের সূত্রপাত
এই আইন কার্যকর করার মূল কারণ হিসেবে ধর্মীয় বিধানের জেরে নারীর অধিকার খর্ব হওয়া বন্ধ করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হচ্ছে। তবে এই আইনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের একাংশের মতে, লিভ-ইন সম্পর্কের মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় আনা নাগরিকদের সংবিধান প্রদত্ত গোপনীয়তা, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের পরিপন্থী। বিরোধীরা আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সব মিলিয়ে, এই ঐতিহাসিক আইনি পরিবর্তন রাজ্যের সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের দূরগামী প্রভাব ফেলতে চলেছে।
