বাংলায় শুধু রাফাল আনা বাকি! ভোটের রণক্ষেত্রে মেজাজ হারালেন মমতা ও অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই পারদ চড়ছে বাংলার রাজনীতিতে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন রেকর্ড ২,৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। তবে এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ভোটপ্রক্রিয়া চলাকালীন কড়া নিরাপত্তা নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন শুধু বাংলায় রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন করাই বাকি।” তাঁর মতে, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সীমান্তে যে পরিমাণ বাহিনীর প্রয়োজন ছিল, তা বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও তৃণমূলের তোপ
কমিশনের এই সক্রিয়তাকে শাসক দল বিরোধী শিবিরের ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট চলাকালীন বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে গিয়ে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। ভবানীপুরের প্রার্থী হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকরা বিজেপির কথামতো কাজ করছেন। তৃণমূলের পোস্টার সরিয়ে ফেলা এবং নতুন কর্মকর্তাদের দিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ তুলে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “এভাবে কি নির্বাচন হয়?” তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোট ভোটাররা দেবেন, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী নয়।
নিরাপত্তার চাদরে ১৪২ আসন
এদিন সকাল থেকেই কলকাতা, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। ৩ কোটি ২১ লক্ষ ভোটার আজ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কমিশন কেবল বিপুল বাহিনীই নয়, ভোট পর্যবেক্ষণে ড্রোন এবং প্রায় সাড়ে তিনশ সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে কলকাতার ওপর, যেখানে সর্বোচ্চ ২৭৩ কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। এই কঠোর নজরদারির ফলে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও, তা নিয়ে শাসক শিবিরের রাজনৈতিক প্রতিবাদ ভোটের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা।
- কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে কড়া ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- বিজেপির হয়ে পর্যবেক্ষকদের কাজ করার এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- মোট ২,৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিটি বুথে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
