বাংলার পর্যটনকেন্দ্র সাজাবে IIT খড়গপুর, টিটিএফ-এ বড় ঘোষণা পর্যটনমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রকে নতুনভাবে সাজাতে এবার আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের হাত ধরল রাজ্য পর্যটন দফতর। কলকাতার ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (টিটিএফ) ২০২৬-এর মঞ্চ থেকে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। মূল লক্ষ্য—বিকল্প ও অফবিট পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে টেকসই পরিকাঠামোয় গড়ে তোলা।
আইআইটি-র সঙ্গে যৌথ পরিকল্পনা সম্প্রতি আইআইটি খড়গপুরের বিশিষ্ট অধ্যাপক ডঃ পার্থ ঘোষ, ডঃ জয় সেন এবং ডঃ শ্রেয়স বণিকের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন পর্যটনমন্ত্রী। সেখানে রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার এবং ক্রিয়েটিভ ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে এক সামগ্রিক উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট নিয়ে আলোচনা হয়। পর্যটন কেন্দ্রের ব্র্যান্ডিং, পর্যটকবান্ধব পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং মাইক্রো থেকে ম্যাক্রো স্তরে উন্নয়নের কৌশল নির্ধারণ করাই এই যৌথ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের লক্ষ্য মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের মতে, রাজ্যের অনেক সুন্দর জায়গা এখনও পর্যটকদের অগোচরে রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই এই কেন্দ্রগুলিকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। এতে কেবল পর্যটন প্রসারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই পরিকল্পিত উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।
টিটিএফ ২০২৬: মেলবন্ধন ও নতুন দিশা শুক্রবার কলকাতায় শুরু হয়েছে পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন মেলা ‘টিটিএফ ২০২৬’। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ডের পর্যটনমন্ত্রী সতপাল মহারাজ এবং গোয়ার পর্যটনমন্ত্রী রোহন এ. খাউন্তে। এদিনের মেলায় গোয়া সরকারের প্যাভিলিয়নেও বিশেষ চমক ছিল। কলকাতা থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবার সুবিধা থাকায়, পূর্ব ভারতের পর্যটকদের কাছে নিজেদের নতুন রূপে তুলে ধরতে মরিয়া গোয়া। তারা এখন কেবল সমুদ্রসৈকত নয়, বরং ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের মতো বিষয়গুলিতেও জোর দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, টিটিএফ ২০২৬-এর মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেভাবে টেকসই ও পরিকল্পিত পর্যটনের রূপরেখা তুলে ধরল, তা রাজ্যবাসীর কাছে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে।
