বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে নাড়াচাড়া, শাহের পছন্দে কি বাজিমাত করবেন শুভেন্দু?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর এখন সবার নজর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই প্রশ্নের দিকে। রাজভবনের মসনদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরমহলে শুরু হয়েছে জোরদার তৎপরতা। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সঁপে দিয়েছে দলের প্রধান রণকৌশলী তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওপর। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ ও দিল্লি-কলকাতা সমন্বয়
বিজেপি হাইকমান্ড পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অমিত শাহকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে থাকছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আসামের অভিজ্ঞ নেতাদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের মতামত এবং জয়ী প্রার্থীদের পারফরম্যান্স যাচাই করতে দিল্লি থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতায় দলের সদর দফতরে দফায় দফায় বৈঠক চলছে, যার নির্যাস সরাসরি পৌঁছাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।
শীর্ষ পদের দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু
রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে শমীক ভট্টাচার্য, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নামগুলো আলোচনায় থাকলেও, পাল্লা ভারী শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের সঙ্গে শুভেন্দুর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে অন্যদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
তৃণমূলের দুর্গ ভেঙে বিজেপির এই উত্থানে শুভেন্দুর রণকৌশল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ আস্থা অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একজন ভূমিপুত্র এবং অভিজ্ঞ সংগঠককে বেছে নেওয়ার যে ইঙ্গিত শাহ দিয়েছেন, তাতে শুভেন্দু অধিকারীর নামই সবার ওপরে উঠে আসছে। যদি শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুর নামই চূড়ান্ত হয়, তবে তা বঙ্গ বিজেপির সমীকরণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এখন শুধু শাহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
