বাংলার বিধানসভায় পরিবর্তনের হাওয়া, সরিয়ে ফেলা হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামফলক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পনেরো বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। রাজ্যের মসনদ দখল করেছে বিজেপি। এই জয়ের পর আগামী শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক পালাবদলের আবহে বিধানসভা ভবনের অন্দরে এখন ব্যাপক সংস্কার ও ভোলবদলের কাজ চলছে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিদায়ী মন্ত্রীদের নামফলকগুলো ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
গেরুয়া সাজে বিধানসভা ও নতুন র্যাম্প
বিধানসভা ভবনের ভোল বদলে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো রঙের পরিবর্তন। গোটা ভবন এবং অভ্যন্তরের বিভিন্ন অংশ গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে। এমনকি নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য বিধানসভার কক্ষ থেকে বাগানের দিকে যাতায়াতের পথে একটি স্থায়ী র্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্যবহার করা হচ্ছে একই রং। শনিবার শপথ গ্রহণের পর নতুন বিধায়কদের নিয়ে হবু মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
সচিবালয় হিসেবে প্ল্যাটিনাম জুবিলি হল
নতুন বিজেপি সরকার প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে নবান্নকে নয়, বরং ঐতিহ্যের মহাকরণকে বেছে নিয়েছে। তবে মহাকরণের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী অন্তত ছয় মাস বিধানসভা ভবন থেকেই চলবে রাজ্য প্রশাসনের যাবতীয় কাজকর্ম। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট পুরোনো ঘরেই বসবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিধানসভা চত্বরে অবস্থিত প্ল্যাটিনাম জুবিলি হলটিকে সাময়িকভাবে সচিবালয় হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবারের এই বিশেষ প্রস্তুতির জন্য বিধানসভার সকল কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন ও বিধানসভার সংস্কার।
- বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নামফলক অপসারণ এবং ভবনে গেরুয়া রঙের প্রলেপ।
- মহাকরণ প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৬ মাস বিধানসভা থেকেই চলবে সরকারি কাজ।
- সচিবালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জুবিলি হল।
