বাংলার ভোটে কেবল রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েন বাকি ছিল, কড়া নিরাপত্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র কটাক্ষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের ১৪২টি বিধানসভা আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বেনজির আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৭টি জেলায় ২ হাজার ৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, বাংলায় ভোট করাতে এখন কেবল রাফাল যুদ্ধবিমান এবং আইএনএস যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করাই বাকি রয়ে গেছে। কমিশনকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, যে বিপুল পরিমাণ বাহিনী পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সীমান্তে থাকা উচিত ছিল, তা সাধারণ মানুষের ভোটের জন্য বাংলার বুথে বুথে নামানো হয়েছে।
বিজেপির ইশারায় কমিশন চলার অভিযোগ মমতার
ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তা এবং পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথামতো কাজ করছে এবং তৃণমূলের পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে দাবি করে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে কি গণতন্ত্রে ভোট হওয়া সম্ভব? তাঁর মতে, ভোট দেবেন সাধারণ মানুষ, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী নয়।
নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ১৪২ আসন
নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফার এই ভোটে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না। কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের বুথগুলোতে নিরাপত্তার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে রেকর্ড সংখ্যক সাধারণ, পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষক। উল্লেখ্য, এই দফার ১৪২টি আসনের মধ্যে গত নির্বাচনে তৃণমূল ১২৩টিতে জিতেছিল। এবারের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে ভবানীপুর, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এক ঝলকে
- ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ২,৩২১ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে নির্বাচন কমিশন।
- বাহিনীর আধিক্যকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘রাফাল মোতায়েন’ করার সাথে তুলনা করেছেন।
- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বহিরাগত পর্যবেক্ষকরা বিজেপির আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে।
- গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় ৯৩.১৯ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়েছিল।
