বাংলার শিল্পখরায় স্বস্তির বৃষ্টি! ১৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে ফিরছে আশার আলো – এবেলা

বাংলার শিল্পখরায় স্বস্তির বৃষ্টি! ১৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে ফিরছে আশার আলো – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: সিঙ্গুর-পরবর্তী শিল্প-খরা কাটিয়ে নতুন দিশার সন্ধানে বাংলা। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের শিল্পবান্ধব উদ্যোগে ফের আগ্রহ দেখাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। শুক্রবার আয়োজিত এক বাণিজ্য সম্মেলনে মোট ১৬০০ কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “বেঙ্গল ইজ ব্যাক উইথ এ ব্যাং!”

শিল্পায়নে বড় পদক্ষেপ ও কর্মসংস্থানের হাতছানি

নতুন সরকারের আমলে শিল্পমহলে নতুন উৎসাহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, বড় মাপের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে একাধিক নামী সংস্থা:

  • হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস: দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে ৬,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল প্ল্যান্ট তৈরির পথে।
  • এল অ্যান্ড টি (L&T): ৩০ মেগাওয়াটের একটি মেগা ডেটা সেন্টার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। এতে প্রায় ২৫,০০০ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
  • পিয়ারলেস গ্রুপ: স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো খাতে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা। এর মধ্যে ৪০০ কোটি খরচ হবে ক্যানসার চিকিৎসায় এবং ১৫০ কোটি টাকা যাবে বারাসাত জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণে। এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে আবাসন ও শপিং মল নির্মাণে আরও ৫০০ কোটি বিনিয়োগ করা হবে।
  • সেমিকন্ডাক্টর শিল্প: রাজ্য বাজেটের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের লক্ষ্যমাত্রায় অংশীদার হতে আগ্রহ দেখিয়েছে পিডব্লুসি (PwC)।

“অখুশি রাজ্য থেকে সাফল্যের পথে”

অতীতের পরিস্থিতির সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত অকপটে স্বীকার করেন, গত কয়েক বছরে বাংলা কার্যত একটি ‘অখুশি রাজ্যে’ পরিণত হয়েছিল। সেই ধারণা বদলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে বর্তমান সরকার। শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে রাজ্য সরকার এবার ‘ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট’ বা জমি সংক্রান্ত আইন সরলীকরণের পথে হাঁটছে।

বাঙালি ও ব্যবসা নিয়ে ভুল ধারণা ভাঙলেন সঞ্জীব স্যান্যাল

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব স্যান্যাল বাঙালি এবং ব্যবসার সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর কথায়, “বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না—এটা ভুল কথা। ভুল অর্থনীতি ও রাজনীতির কারণে এখানকার সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসলে বাঙালিরা ব্যবসা করতে চায় না বলে প্রচার করা হয়েছে, অথচ ব্যবসা বাঙালির রক্তেই রয়েছে।”

সব মিলিয়ে, শিল্প মহলের এই নতুন আগ্রহ বাংলার অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়নের জোয়ার আনবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *