বাংলার শিল্পায়নে নতুন জোয়ার, টাটা-বিড়লাদের ফেরাতে প্রয়োজনে পায়ে ধরতেও রাজি তাপস রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সিঙ্গুর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ডানকুনিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। প্রায় ২০ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে গড়ে উঠছে ‘লাক্স কোজি’-র দ্বিতীয় উৎপাদন ইউনিট। শনিবার এই প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় রাজ্যে শিল্পায়নের এক নতুন যুগের ঘোষণা করলেন।
প্রকল্পের বিশেষত্ব ও কর্মসংস্থান: এই প্রকল্পে ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক উৎপাদন ২০ কোটি থেকে বেড়ে ৩৫ কোটিতে পৌঁছাবে, যা থেকে বছরে ১,০০০ কোটি টাকার রাজস্ব আসবে। পাশাপাশি, এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা বহু পরিবারের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা প্রদান করবে। এছাড়াও, কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং একটি আধুনিক গোশালাও তৈরি করা হয়েছে।
সরকারের অঙ্গীকার: শিল্পমন্ত্রী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিশীল নেতৃত্বে বাংলার শিল্প মানচিত্রে এই নতুন সংযোজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আরও জানান, আগামী দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে আরও ৫টি বড় শিল্প প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
আগের সরকারের সমালোচনা: বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তাপস রায় বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি কোনও ল্যান্ড ব্যাংক, শিল্প নীতি বা ইনসেন্টিভ পাননি। পাঁচ দশকের অবহেলার কারণে বাংলায় যে শিল্প-খরা ও মেধা পাচার (Brain Drain) শুরু হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই বন্ধ্যাত্ব দূর করতে বদ্ধপরিকর।
শিল্পপতিদের ফেরানোর বার্তা: সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের স্বার্থে ও নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য যদি মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, তবে তিনি অতীতে রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়া টাটা, আদিত্য বিড়লা গ্রুপ সহ ৬,৬৮৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের দরজায় যেতেও পিছপা হবেন না। প্রয়োজনে তাঁদের হাত-পা ধরে অনুরোধ করে বাংলায় ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাসক দলের রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য, শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং, পরিবহন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং শিল্প দফতরের প্রধান সচিব বন্দনা যাদব। লাক্স গ্রুপের কর্ণধার অশোক টোডি ও সাকেত টোডির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।
