বাংলার সংস্কৃতি না জেনে আক্রমণ করলে হবে না, যাদবপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীকে কড়া জবাব রাজের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এবার পালটা আক্রমণ শানালেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিশিষ্ট পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। সম্প্রতি বারুইপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, যাদবপুরের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে এখন পড়াশোনার বদলে অরাজকতা এবং দেশবিরোধী স্লোগানের সংস্কৃতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগকে বাংলার শিক্ষা ও মেধার অপমান হিসেবে দেখছে শাসক শিবির।
বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আবেগ
রাজ চক্রবর্তীর মতে, প্রধানমন্ত্রী বাংলার সংস্কৃতি ও ছাত্রদের রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা না রেখেই কথা বলছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার পাড়ার রক থেকে শুরু করে কলেজের কমন রুম—সর্বত্রই রাজনীতি, খেলাধুলা এবং গঠনমূলক চর্চা চলে। ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে উঠে আসা এখানকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী একে ‘অরাজকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আদতে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে খাটো করছেন বলেই মনে করছেন এই তৃণমূল নেতা।
মেধা বনাম অরাজকতার লড়াই
যাদবপুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। একদিকে গেরুয়া শিবির যখন শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা বলছে, তখন রাজের দাবি, বাংলা দখল করার আগে এখানকার মাটিকে চেনা জরুরি। তাঁর ভাষ্যমতে, ছাত্ররা প্রতিবাদে সরব হওয়া মানেই বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এটি সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ। এই সংঘাতের ফলে আগামী নির্বাচনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মানদণ্ড একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এক ঝলকে
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশকে ‘অরাজক’ বলে সমালোচনা করেন নরেন্দ্র মোদি।
- প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া বিরোধিতা করে রাজ চক্রবর্তী বলেন, বাংলা ও যাদবপুর সম্পর্কে মোদির জ্ঞান সীমিত।
- ছাত্রদের রাজনৈতিক চর্চাকে বাংলার দীর্ঘদিনের গঠনমূলক সংস্কৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এই পরিচালক-রাজনীতিবিদ।
- এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে।
