বাংলা থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ১৫০০ কিমি দীর্ঘ মেঘের প্রাচীর! কোন কোন জেলায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা? – এবেলা

বাংলা থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ১৫০০ কিমি দীর্ঘ মেঘের প্রাচীর! কোন কোন জেলায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: তীব্র গরম ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের আবহাওয়া মানচিত্রে এল বড় বদল। স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শক্তিশালী সিস্টেম। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন উত্তর থেকে দক্ষিণ—গোটা ভারতেই বৃষ্টির দাপট বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

কেন এই বৃষ্টির দাপট? মৌসম ভবন জানিয়েছে, হিমালয়ের পাদদেশ থেকে মৌসুমী অক্ষরেখা ধীরে ধীরে দক্ষিণে সরে আসছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই সিস্টেমের প্রভাবে জলীয় বাষ্পের বিপুল আমদানি ঘটবে, যা উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টিপাতকে আরও শক্তিশালী করবে। ১ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের অবশিষ্ট রাজ্যগুলিতেও বর্ষা পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: টানা বর্ষণের পর আপাতত লাল সতর্কতা প্রত্যাহার করা হলেও, দুর্যোগ পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়া দপ্তরের ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায়। এই জেলাগুলির কিছু অংশে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে।

দক্ষিণবঙ্গে কী পরিস্থিতি? দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বর্ষার দাপট বাড়তে চলেছে:

  • অরেঞ্জ অ্যালার্ট: বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান ও নদিয়া জেলায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির জন্য সতর্কবার্তা জারি হয়েছে।
  • বুধবারের সতর্কতা: ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা।
  • কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা: আগামী কয়েকদিন আকাশ মেঘলা থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকলেও, সপ্তাহান্ত থেকে কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। শনি ও রবিবার শহরে ভারী বৃষ্টির ‘হলুদ সতর্কতা’ রয়েছে।

আগামী সপ্তাহের আবহাওয়ার রূপরেখা: আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৫ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের বাকি রাজ্যগুলিতেও বর্ষা পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা উত্তপ্ত পরিস্থিতির কিছুটা সুরাহা করবে।

আবহাওয়া দপ্তর সাধারণ মানুষকে এই সময় বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *