বাঙালি আবেগ ছুঁয়ে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মেগা সফর, এক্স হ্যান্ডলে বড় বার্তা মোদীর – এবেলা

বাঙালি আবেগ ছুঁয়ে শুরু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মেগা সফর, এক্স হ্যান্ডলে বড় বার্তা মোদীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুই দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে রাজ্যে পা রাখার আগেই এক নজিরবিহীন উপায়ে বাংলার মানুষের মন জয় করার উদ্যোগ নিলেন তিনি। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় একাধিক পোস্ট করে তাঁর এই সফরের খুঁটিনাটি ও আবেগপূর্ণ বার্তা ভাগ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০ ও ২১ জুনের এই ঠাসা কর্মসূচিতে একদিকে যেমন রয়েছে কৃষি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বড়সড় উন্নয়নমূলক প্রকল্প, তেমনই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মতো বিশেষ উদযাপন।

তারকেশ্বরে কৃষি বিপ্লব ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথম দিন অর্থাৎ ২০ জুনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হুগলি জেলার ঐতিহ্যবাহী তারকেশ্বর। এই দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে মোদী তাঁর পোস্টে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান এবং পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইকে স্মরণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় পা রাখার আগে এমন বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বাঙালির আবেগ ও আঞ্চলিক আত্মপরিচয়কে ছুঁতে চেয়েছেন।

তারকেশ্বরের এই মঞ্চ থেকেই সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এখান থেকেই পিএম-কিসান (PM-KISAN) প্রকল্পের ২৩তম কিস্তির টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা, ডিজিটাল কৃষি মিশনের অংশ হিসেবে ‘এগ্রি স্ট্যাক’, ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিং এবং প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনার মতো একাধিক কেন্দ্রীয় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের সূচনা হতে চলেছে এই সফর থেকেই। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের কৃষি পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

রেড রোডে যোগ দিবস ও জলপথে প্রতিরক্ষার নতুন শক্তি

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রধান সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রে এই যোগ দিবসের আয়োজন জাতীয় স্তরে এক বড় বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ দেশীয় নকশায় নির্মিত তিনটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ— আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জলে ভাসানো হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল পূর্ব ভারতের সমুদ্র নিরাপত্তাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে না, বরং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’ ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সঙ্কল্পকে আরও মজবুত করবে।

মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা হয়ে ওড়িশা ঘুরে তারকেশ্বর, এবং সেখান থেকে কলকাতার লোকভবন ও রেড রোড— প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনের ঝটিকা সফর রাজ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *