বাবা হতে পারছেন না? বীর্যের গুণমান ও সংখ্যা বাড়াতে ডায়েটে রাখুন এই ৫টি সুপারফুড! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাসের কারণে বর্তমানে পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যত্বের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল নারীরাই নয়, সন্তান ধারণে সমস্যার পেছনে পুরুষের শুক্রাণুর নিম্নমান এবং স্বল্প সংখ্যা একটি বড় কারণ। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করা বা যন্ত্রপাতির তাপে থাকা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা সরাসরি শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গ্রহণের মাধ্যমে এই শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উর্বরতা বৃদ্ধিতে সেরা পাঁচটি সুপারফুড
শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান বাড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পাঁচটি বিশেষ খাবারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রথমত, ডিমকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়; এতে থাকা প্রোটিন এবং ভিটামিন বি১২ শুক্রাণুর ডিএনএ গঠন ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। দ্বিতীয়ত, পালং শাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে থাকা ফোলেট শুক্রাণুর সঠিক আকৃতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ডাল ও কলাই জাতীয় খাবার বীর্যের ঘনত্ব বাড়াতে কার্যকর। চতুর্থত, চিনাবাদাম ও কাঁঠালের বীজে থাকা ‘এল-আর্জিনাইন’ উপাদান শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক। সবশেষে, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ এবং কলা শুক্রাণুকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করে তোলে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও সতর্কতা
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অভ্যাস শুক্রাণুর অপূরণীয় ক্ষতি করে, তাই এগুলো বর্জন করা আবশ্যক। এছাড়া শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন মাথায় তেল মেখে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত ফলমূল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
এক ঝলকে
- অনিয়মিত জীবনযাপন ও উচ্চ তাপমাত্রায় কাজের ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমছে।
- ডিম, শাকসবজি, ডাল, বাদাম এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
- খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করা প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জরুরি।
- বীর্যের ঘনত্ব এবং গতিশীলতা বাড়াতে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান যেমন ফোলেট ও এল-আর্জিনাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
