বালুরঘাটে রণক্ষেত্র! নেশামুক্তি কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ

নেশার অন্ধকার থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্নেই বালুরঘাটের একটি বেসরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন চোপড়ার যুবক ইসরাফুল হক। কিন্তু ভর্তির মাত্র চার দিনের মাথায় সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল। শুক্রবার সকালে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইসরাফুলের মৃত্যুর খবর জানানো হলে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। কর্তৃপক্ষের দাবি হৃদরোগে মৃত্যু হলেও, পরিবারের অভিযোগ— পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ২৬ বছর বয়সী ওই যুবককে।
তীব্র উত্তেজনা ও ভাঙচুর
যুবকের দেহের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার বিকেলে উত্তেজিত জনতা ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ইটের আঘাতে জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র তছনছ হয়ে যায়, যার ফলে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা অন্য আবাসিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। উত্তেজনার সুযোগে অনেক আবাসিক কেন্দ্র ছেড়ে পালিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
গত ২৭ এপ্রিল সুস্থ হওয়ার আশায় ইসরাফুলকে এই কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই নৃশংস ঘটনা বেসরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসার মান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। সুস্থ করার নামে আবাসিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- বালুরঘাটের একটি বেসরকারি নেশামুক্তি কেন্দ্রে ইসরাফুল হক নামক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু।
- পরিবারের দাবি, হৃদরোগ নয় বরং পিটিয়ে খুন করা হয়েছে ওই যুবককে।
- ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতার ব্যাপক ভাঙচুর ও রণক্ষেত্র চেহারা নেয় এলাকা।
- পুলিশি তদন্ত শুরু এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রশাসন।
