বিচারের আশায় শুভেন্দুর জনতার দরবারে সন্তানহারা দুই মা, মিলল দ্রুত তদন্তের আশ্বাস – এবেলা

বিচারের আশায় শুভেন্দুর জনতার দরবারে সন্তানহারা দুই মা, মিলল দ্রুত তদন্তের আশ্বাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ এবার উঠে এল দুই সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ এবং বিচারের আকুল আবেদন। শনিবার সকালে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজির হন বাঁশদ্রোণীর স্কুলে মৃত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা। দু’জনেই তাঁদের সন্তানের অকালমৃত্যুর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে বর্তমান সরকারের চালু করা এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ও এসআইটি গঠনের আশ্বাস

গত ২৪ মে বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে আট বছরের শিশু ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, উল্টো সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে সে গুরুতর জখম হয় এবং পরে হাসপাতালে মারা যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই চরম গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান আয়ুষের মা। অন্যদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের ঠিক আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানো ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা-ও এদিন হাজির ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, অমর্ত্য সেখানকার ‘থ্রেট কালচার’-এর শিকার হয়েছিল। এই ঘটনায় সিআইডি তদন্ত চললেও তাতে সন্তুষ্ট নয় পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী দুই মায়ের অভিযোগই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং বর্ধমানের ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের সম্ভাবনার কথা জানান।

আর্থিক সংকট ও বঞ্চনার নানা ছবি

সন্তানহারা মায়েদের পাশাপাশি এদিন জনতার দরবারে চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারা এক অসহায় মায়ের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে। ধাপা মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা করুণা বাউড়ির মেয়ের মুখে টিউমার ধরা পড়েছে। ভেলোরে চিকিৎসা চললেও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদেরও পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন। এছাড়া, বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে এদিন দরবারে হাজির হন আশাকর্মীদের তদারকির দায়িত্বে থাকা ফার্স্ট টিয়ার সুপারভাইজাররা (এফটিএস)।

জনতার দরবারের এই চিত্র স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রাতিষ্ঠানিক গাফিলতি, থ্রেট কালচার এবং চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কতটা গভীর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি জনসংযোগ ও দ্রুত আশ্বাসের ফলে প্রশাসন আগামী দিনে কতটা তৎপর হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আদৌ প্রকৃত বিচার পায় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *