বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি বদলে যাবে সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়, নবান্ন জুড়ে তুঙ্গে চর্চা

বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি বদলে যাবে সরকারি কর্মীদের ডিউটির সময়, নবান্ন জুড়ে তুঙ্গে চর্চা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে। তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রে শুধু ক্ষমতা দখল নয়, বরং বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কর্মসংস্কৃতি ও সুযোগ-সুবিধার আমূল পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। বিশেষ করে ডিউটির সময়সূচী এবং কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়া নিয়ে নবান্নের অলিন্দে এখন টানটান উত্তেজনা।

সপ্তম বেতন কমিশন ও বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ না পাওয়া। বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ডিএ-র ব্যবধান প্রায় ৩৫ শতাংশ। বিজেপি তাদের নির্বাচনী ‘সংকল্প পত্রে’ স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই প্রতিশ্রুতি কর্মীদের একটি বড় অংশকে আশাবাদী করে তুলেছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের আর্থিক সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কঠোর কর্মসংস্কৃতি ও ডিউটির সময়ের রদবদল

বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মীদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে কঠোর প্রশাসনিক নিয়মাবলী। বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্য এবং কেন্দ্রের মডেল অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও সকাল ৯:১৫ মিনিটের মধ্যে হাজিরা বাধ্যতামূলক করার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে অফিসে পৌঁছালে নৈমিত্তিক ছুটি (সিএল) কাটার নিয়ম কার্যকর হতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, সরকারি কর্মীদের কাজের মান বাড়াতে এবং দীর্ঘদিনের ‘শিথিল’ কর্মসংস্কৃতি ভাঙতে এই কড়াকড়ি প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে পাঁচ দিনের কর্মদিবস (৫-ডে ওয়ার্ক উইক) নিয়ে। ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে প্রশাসনিক গতি বাড়াতে পুনরায় ছয় দিনের কর্মদিবস ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই মডেল কার্যকর হলে কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটির হিসেবে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

স্বচ্ছ নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্য

বিজেপির ইশতেহার অনুযায়ী, গত ১৫ বছরের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতি নিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ ও মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মাধ্যমে কাটমানি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি বন্ধ করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিস রুল অনুযায়ী কর্মীদের শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায় গেরুয়া শিবির।

সার্বিকভাবে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একদিকে যেমন বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মীদের আর্থিক সুরাহার পথ প্রশস্ত হবে, অন্যদিকে ডিউটির সময়ের কড়াকড়ি ও বর্ধিত কর্মদিবসের চাপে পড়তে হতে পারে সরকারি কর্মচারীদের। এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের সমীকরণ নিয়েই এখন চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত নবান্নের কর্মীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *