বিদায় ‘থ্রেট কালচার’, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি বাতিল করল স্বাস্থ্যদপ্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেডিক্যাল কলেজগুলোতে তথাকথিত ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যভবন। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বহর ও সরকারি পদক্ষেপ
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অসৎ আচরণ, ফৌজদারি মামলা, একাধিক এফআইআর এবং দুর্নীতি দমন শাখার (এসিবি) তদন্তের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সাসপেন্ড থাকা এই চিকিৎসকের সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ সম্পূর্ণ বাতিল করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁর সরকারি চাকরিতে যোগদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তবে এই শাস্তির মুখে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা নাগরিক হিসেবে তাঁর কর্তব্য, এর বেশি কিছু তাঁর বলার নেই।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠবৃত্তে থেকে প্রভাব খাটানো এবং আর জি করের বিতর্কিত ঘটনার সেমিনার হলের ভিডিওতে উপস্থিত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল, যার জেরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এছাড়া, মুর্শিদাবাদের এক ছাত্রকে ডাক্তারি পাঠ্যক্রমে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের ফৌজদারি অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই কড়া পদক্ষেপের ফলে রাজ্য স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা সিন্ডিকেটরাজ এবং জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর হুমকি সংস্কৃতির রাশ টানা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের অনৈতিক ও বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা চিকিৎসা পরিষেবার সামগ্রিক পরিবেশকে স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে।
