বিদ্যুতের অপচয় রুখতে বড় পদক্ষেপ, জুলাই থেকেই রাজ্যে বসছে আরও ২ কোটি স্মার্ট মিটার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে বিদ্যুতের অপচয় রুখতে এবং বণ্টন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে স্মার্ট মিটার বসানোর পরবর্তী ধাপের কাজ। এই দফায় রাজ্যের প্রায় দুই কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহক নতুন এই পরিষেবার আওতায় আসতে চলেছেন। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর রাজ্য সফরকালে বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে মিটার রূপায়ণ এবং গ্রাহক সুবিধা
এই নতুন উদ্যোগের প্রথম দফায় সমস্ত সরকারি অফিস এবং বড় ক্যাম্পাসগুলিতে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। এর পরবর্তী ধাপে বিদ্যুৎ বেশি ব্যবহার করেন এমন বড় গ্রাহকদের এই পরিষেবার আওতায় আনা হবে। সব শেষ দফায় ধাপে ধাপে সাধারণ গৃহস্থদের বাড়িতে এই মিটার দেওয়া হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকেরা তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী প্রিপেইড অথবা পোস্টপেইড— যে কোনও একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রতিটি স্মার্ট মিটারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৯০০ টাকা করে ভরতুকি দেবে এবং মিটার বসানোর খরচ হিসেবে গ্রাহকদের প্রতি মাসে আনুমানিক ১০০ টাকা করে দিতে হবে।
বিলিংয়ের ভুলত্রুটি হ্রাস ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
স্মার্ট মিটার চালু হলে বিদ্যুৎ বিলিংয়ের প্রচলিত ভুলত্রুটি অনেকটাই কমবে এবং গ্রাহকেরা আরও স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন। বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুৎ পরিবহণ ও বণ্টনজনিত ক্ষতি (টি অ্যান্ড ডি লস) প্রায় ১২ শতাংশ, যা কমিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এছাড়া আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি সুসংহত সম্পদ বণ্টন পরিকল্পনা তৈরি করা হবে এবং বিদ্যুতের একটি সংশোধিত মাশুল কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ভরতুকি ও বকেয়া পাওনা মিলিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা উদ্ধার এবং বিগত বছরগুলির ১৫,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি সামাল দিতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
শহুরে উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
বৈঠকে রাজ্যের সার্বিক শহুরে পরিকাঠামো ও পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহরে মেট্রো প্রকল্পের মোট খরচের ১৫ শতাংশ কেন্দ্র ও ১৫ শতাংশ রাজ্য দেবে এবং বাকি ৭০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ হিসেবে নেওয়া হবে। শহরের আবর্জনা সাফাইয়ের জন্য আগামী এক বছরের মধ্যে সমস্ত পুরনো ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্য বৈজ্ঞানিক উপায়ে নষ্ট করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যেখানে কেন্দ্র ৫৫০ কোটি টাকা সাহায্য দেবে। পাশাপাশি ‘ক্লিন হিমালয়ান সিটিস ইনিশিয়েটিভ’-এর অধীনে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, শিলিগুড়ি এবং মিরিক— এই পাঁচ শহরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
