বিধানসভায় নয়া সমীকরণ, সর্বদলীয় বৈঠকে ব্রাত্য শোভনদেব-কুণাল – এবেলা

বিধানসভায় নয়া সমীকরণ, সর্বদলীয় বৈঠকে ব্রাত্য শোভনদেব-কুণাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আসন্ন রাজ্য বাজেট অধিবেশনের প্রাক্কালে বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এক নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার বিধানসভায় আয়োজিত কার্য উপদেষ্টা কমিটি বা বিএ কমিটি এবং সর্বদলীয় বৈঠকে দলের প্রবীণ নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে আমন্ত্রণ না জানানোয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অথচ, এই বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরকে।

বদলে গেল বিরোধী রাজনীতির ভরকেন্দ্র

বিধানসভা সচিবালয়ের এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি তৃণমূলের ৬৫ জন বিধায়ক বিধানসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকার ইতিমধ্যেই তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই ঘটনাপ্রবাহের রেশ ধরেই এদিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতাদের বাদ দিয়ে ঋতব্রত শিবিরকে গুরুত্ব দেওয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বিধানসভার অন্দরে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এখন অনেকটাই বিক্ষুব্ধদের অনুকূলে।

সংখ্যালঘু বিধায়কদের অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের এই সংকটে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহ। জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, সাবিনা ইয়াসমিন ও আখরুজ্জামানের মতো প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতারা ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোয় শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি চরমে। এদিনের বৈঠকে হুমায়ুন কবীর, ন‌ওশাদ সিদ্দিকী এবং মুস্তাফিজুর রহমানদের উপস্থিতিও শাসকদলের জন্য অশনিসংকেত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা সচিবালয় সংখ্যার বিচারে নতুন সমীকরণকে যেভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে, তাতে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন বিধানসভার ভেতরে সরকার পক্ষের অস্বস্তি আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এখন দেখার, অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই নয়া মেরুকরণ রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *