বিপদে ভরসা সোনা! ১০ গ্রাম গয়নায় কত লোন পাবেন, জানুন খুঁটিনাটি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চিকিৎসার বিপুল খরচ, পড়াশোনার ফি বা আচমকা কোনো আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের কাছে গোল্ড লোন বা স্বর্ণঋণ ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজ সমাধান হয়ে উঠছে। বিশেষত, যাদের ক্রেডিট স্কোর কম, তাঁরাও শুধুমাত্র মজুত সোনার ওপর ভিত্তি করে দ্রুত এই ঋণ পেতে পারেন। সহজলভ্যতার কারণেই বাজারে গোল্ড লোনের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কো ম্পা নিগুলির (NBFC) নিয়মকানুন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি।
কত সোনায় মিলবে কত টাকা
নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাঙ্কগুলি সাধারণত সোনার তৎকালীন বাজার মূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত লোন দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১০ গ্রাম সোনার দাম যদি ১ লক্ষ টাকা হয়, তবে ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, বেশ কিছু নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কো ম্পা নি (NBFC) গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত লোন-টু-ভ্যালু (LTV) রেশিওতে ঋণ প্রদান করে থাকে।
সুদের হার ও ঋণ পরিশোধের শর্ত
প্রতিষ্ঠানভেদে সুদের হারে বড়সড় পার্থক্য দেখা যায়। সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে গোল্ড লোনের সুদের হার সাধারণত ৮.৬৫% থেকে ১০%-এর মধ্যে থাকে, যা বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। কিন্তু NBFC-গুলির ক্ষেত্রে এই হার ৯% থেকে শুরু হয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ২৪% পর্যন্ত হতে পারে। তাই তুলনামূলক কম সুদে ঋণ পেতে ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের সুবিধার্থে ইএমআই (EMI), মেয়াদের শেষে শুধু আসল টাকা ফেরত দেওয়া বা ‘বুলেট রিপেমেন্ট’-এর মতো একাধিক বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকদের নিজস্ব মাসিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক পরিকল্পনাটি বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
গোল্ড লোন পাওয়া সহজ হলেও এর কিছু সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব রয়েছে। ঋণ নেওয়ার আগে প্রসেসিং ফি বা পেনাল্টি চার্জের মতো লুকানো খরচগুলি সম্পর্কে সতর্ক না হলে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বন্ধক রাখা গয়না নিলামে উঠতে পারে। তাই শুধুমাত্র চরম জরুরি প্রয়োজনেই এই ঋণের সুবিধা নেওয়া উচিত।
