বিমানের শৌচাগারে লুকোনো ৪ কোটি টাকার সোনা! প্রকাশ্যে পাচারকারীদের নয়া কৌশল – এবেলা

বিমানের শৌচাগারে লুকোনো ৪ কোটি টাকার সোনা! প্রকাশ্যে পাচারকারীদের নয়া কৌশল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনা পাচারের নিত্যনতুন কৌশল দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড় শুল্ক দফতরের আধিকারিকদের। অন্তর্বাস বা শরীরের গোপনাঙ্গের পর এবার খোদ বিমানের শৌচাগারের অডিও স্পিকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ সোনা। শুক্রবার দুবাই থেকে গুজরাটের আহমেদাবাদে পৌঁছানো ইন্ডিগোর একটি বিমানে তল্লাশি চালিয়ে এই চাঞ্চল্যকর সাফল্য পেয়েছে কাস্টমস।

স্পিকারের আড়ালে বিপুল সম্পদ

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর ‘6E-1478’ বিমানে তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় বিমানের শৌচাগারে তল্লাশি চালানোর সময় দেওয়ালের স্পিকার বক্সের ভেতর কালো প্লাস্টিকে মোড়া দুটি সন্দেহজনক প্যাকেট উদ্ধার হয়। অডিও মেশিনের পেছনে অত্যন্ত সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখা সেই প্যাকেট খুলতেই বেরিয়ে আসে ২৪টি সোনার বিস্কুট, যার মোট ওজন প্রায় ২,৭৯৯.৩ গ্রাম। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩২৫ টাকা। শুল্ক দফতর ১৯৬২ সালের কাস্টমস আইনের অধীনে সম্পূর্ণ সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে।

পাচারের নয়া ছক ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিক তদন্তে শুল্ক দফতরের অনুমান, দুবাই থেকে বিমানে ওঠা কোনো পাচারকারী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সোনাগুলি স্পিকারের ভেতরে লুকিয়ে রেখেছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিমান গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পরবর্তী কোনো ফ্লাইটের যাত্রী বা বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট কোনো গ্রাউন্ড স্টাফের মাধ্যমে তা নির্বিঘ্নে বাইরে পাচার করা। এই অভিনব পদ্ধতি প্রমাণ করে যে, পাচারচক্রগুলি নিরাপত্তার কড়াকড়ি এড়াতে বিমানের কারিগরি কাঠামোর অপব্যবহার করছে। এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতার না হলেও, এর ফলে দেশের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও তল্লাশি ব্যবস্থা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র যুক্ত আছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *