বুলডোজার নীতিতে হাইকোর্টের ব্রেক! রাজ্যে রেলের হকার উচ্ছেদ থমকাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকারদের সরাতে রেলের আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানে বড়সড় ধাক্কা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় ২৫টি স্টেশনের হকারদের করা মামলার প্রেক্ষিতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। এই নির্দেশের ফলে আপাতত সাময়িক স্বস্তিতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
উচ্ছেদের প্রেক্ষাপট ও আদালতের কড়া বার্তা
সম্প্রতি যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্ম ও রেলের জায়গা দখলমুক্ত করতে বুলডোজার দিয়ে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ শুরু করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধেই বালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁ-সহ ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের হকাররা আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাকারীদের আইনজীবীদের দাবি ছিল, কোনও কারণ না দেখিয়েই রেলের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা ও কর্মসংস্থানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। দু’পক্ষের আইনি যুক্তিতর্ক শেষে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, আপাতত জোরপূর্বক কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিতর্কিত জায়গাগুলি রেল কর্তৃপক্ষকে সশরীরে পরিদর্শন করতে হবে এবং আদালতে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
পুনর্বাসনের নির্দেশ ও সম্ভাব্য প্রভাব
উচ্ছেদ প্রসঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক দিক তুলে ধরেছে উচ্চ আদালত। পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, যাঁদের স্টেশন চত্বরে ব্যবসার বৈধ অনুমতি রয়েছে, তাঁদের সরাতে হলে আগে বাধ্যতামূলকভাবে সুনির্দিষ্ট আইনি নোটিস দিতে হবে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, উচ্ছেদের আগে হকারদের বিকল্প কোনও জায়গায় পুনর্বাসন দেওয়া যায় কি না, তা রেলকে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে একদিকে যেমন রেলের একতরফা জমি পুনরুদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে থমকে গেল, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে হকারদের আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হওয়ার আইনি সম্ভাবনা তৈরি হল।
