বেজিংয়ে জিনপিং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প, ‘বন্ধুত্ব’ নিয়ে দিলেন বড় বার্তা

তিন দিনের চীন সফরে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর প্রশংসায় কার্যত পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ আয়োজিত এক বৈঠকে জিনপিং-কে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাতে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে নতুন এক উষ্ণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও চীনের সেনার প্রশংসা
বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্প জানান, শি জিনপিং-এর বন্ধু হওয়া তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। তিনি দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে এবং অতীতে বহু কঠিন সমস্যা তাঁরা ফোনে কথা বলে সমাধান করেছেন। ট্রাম্পের কথায়, “আপনার মতো মহান নেতার সঙ্গে থাকা সম্মানের বিষয়।” শুধু তাই নয়, চীনের সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি একে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি চীনের শিশুদের মানসিক বিকাশের প্রশংসা করে তাদের দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে চিহ্নিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
এই সফরের অন্যতম প্রধান দিক হলো দুই দেশের বাণিজ্যিক সমঝোতা। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা চীনের বাজারে বিনিয়োগ করতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী। তবে বিশ্বজুড়ে চর্চা চলছে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ‘নমনীয়’ মনোভাবের আসল কারণ নিয়ে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকটের মাঝে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার এই চেষ্টাকে কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। দুই শক্তিধর দেশের এই নতুন রসায়ন আগামীর ভূ-রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
