বেহালায় নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণের নারকীয় ঘটনা তিলোত্তমায়! – এবেলা

বেহালায় নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণের নারকীয় ঘটনা তিলোত্তমায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতায় ফের নারী নিরাপত্তার অভাবকে প্রকট করে খাস কলকাতায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। দক্ষিণ কলকাতার বেহালা এলাকায় এক পরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে লিফট দেওয়ার নামে গাড়িতে তুলে এক নাবালিকাকে মাদক খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার নৃশংসতার ভিডিও রেকর্ডিং করে নির্যাতিতাকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল বলেও জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কলকাতার সরশুনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে নির্যাতিতার পরিবার।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত এপ্রিল মাসে। ঘটনার দিন বেহালার কাছাকাছি একটি গাড়িতে নিজের এক পরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে ভরসা করে উঠেছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, গাড়িতে যাওয়ার সময় তাকে চকোলেট জাতীয় কিছু খাবার দেওয়া হয়, যা খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে অন্য একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে নির্যাতিতা বুঝতে পারে যে সে পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছে। অপরাধ ঢাকতে অভিযুক্তরা পুরো ঘটনার ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে এবং তা দেখিয়ে নাবালিকাকে লাগাতার হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।

আইনি পদক্ষেপ ও মানসিক অবসাদ

ভয়াবহ এই ঘটনার পর থেকেই তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিল ওই নাবালিকা। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পরিবারের পক্ষে পুলিশে অভিযোগ জানাতে কিছুটা সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত রবিবার নির্যাতিতার মা সরশুনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নির্যাতিতার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পর শহরের নিরাপত্তা এবং পরিচিতদের ওপরেও কতটা ভরসা করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিচিতদের দ্বারা এই ধরণের অপরাধের ঘটনা সামাজিক বিশ্বাসযোগ্যতার ভিতকে নাড়িয়ে দেয়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার দিন গাড়িতে উপস্থিত থাকা নাবালিকার সেই ‘পরিচিত’ ব্যক্তিটির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত গাড়িটি এবং যে স্থানে নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই জায়গাটি চিহ্নিত করার জন্য তদন্তকারীরা বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। খুব দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *