বোমা বাঁধতেন ডাক্তার-প্রফেসরেরা! লালকেল্লা বিস্ফোরণে এনআইএ-র ৭৫০০ পাতার চার্জশিটে বিস্ফোরক তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গত বছর রাজধানীর বুকে লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় সেই ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা ৭৫০০ পাতার বিশাল চার্জশিটে এনআইএ দাবি করেছে, এই নাশকতার নেপথ্যে ছিল আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ (AGuH)। এই ঘটনায় মৃত ১১ জনের পরিবারের ক্ষতের মাঝেই তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাদার।
পেশাদার ও শিক্ষিতদের নাশকতার জাল
এনআইএ-র চার্জশিটে ১০ জন অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে ৪ জন চিকিৎসক এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এই মামলার প্রধান হোতা ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা ডাঃ উমর উন নবী, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ডাঃ মুজামিল শাকিল, ডাঃ আদিল আহমেদ রাদার, ডাঃ শাহিন সাঈদ এবং ডাঃ বিলাল নাসির মাল্লা। তদন্তকারীদের মতে, উচ্চশিক্ষিত এই ব্যক্তিদের মগজধোলাই করে ভারতবিরোধী কার্যকলাপে শামিল করা হয়েছিল। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতাসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
বিপজ্জনক ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’ নামে একটি অভিযানের মাধ্যমে দেশে শরিয়তি শাসন কায়েম করার পরিকল্পনা করেছিল। ২০২২ সালে শ্রীনগরে এক গোপন বৈঠকের পর থেকেই তারা সদস্য সংগ্রহ ও বিস্ফোরক মজুত করতে শুরু করে। লালকেল্লা বিস্ফোরণে তারা অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ট্রায়াসিটন ট্রাইপেরক্সাইড’ (TATP) নামক রাসায়নিক ব্যবহার করেছিল। এমনকি ড্রোন এবং রকেটের মাধ্যমেও হামলা চালানোর ব্লু-প্রিন্ট ছিল এই মডিউলটির। ৫৪৪ জন সাক্ষী এবং ৩৯৫টি নথির ভিত্তিতে তৈরি এই চার্জশিটটি অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণে অকাট্য হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। এই ঘটনায় প্রশাসনের আশঙ্কা, শিক্ষিত যুবকদের উগ্রপন্থা ও নাশকতার পথে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
