ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা পেতে দিদির কঙ্কাল নিয়ে হাজির ভাই! ওড়িশার কেওনঝড়ে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য – এবেলা

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা পেতে দিদির কঙ্কাল নিয়ে হাজির ভাই! ওড়িশার কেওনঝড়ে নজিরবিহীন চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ওড়িশার কেওনঝড় জেলায় এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে ব্যাঙ্কের দরজায় কড়া নেড়েও মৃত দিদির জমানো টাকা উদ্ধার করতে না পেরে অবশেষে তাঁর কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হলেন ভাই জিতু মুন্ডা। গত ২৬ জানুয়ারি জিতুর দিদি কালরা মুন্ডার মৃত্যু হলেও তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ২০ হাজার টাকা তুলতে পারছিলেন না পরিবার। অভিযোগ, বারবার দিদির মৃত্যুর কথা জানানো সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টধারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতির দাবিতে অনড় ছিল।

হয়রানির চরম সীমা ও অমানবিকতা

৫০ বছর বয়সি জিতু মুন্ডা ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মালিপোসি শাখায় দিনের পর দিন ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি। ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের ক্রমাগত অসহযোগিতা ও ‘হয়রানি’র জেরে চরম হতাশায় পড়েন তিনি। জিতুর দাবি, নিয়মকানুনের বেড়াজালে আটকে পড়ে তিনি শেষমেশ কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল বের করে সরাসরি ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইনি জটিলতা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ওড়িশা সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী সুরেশ পূজারী জানিয়েছেন, এমন অমানবিক আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে পুলিশ পুনরায় দেহটি সমাহিত করেছে এবং দ্রুত অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ওড়িশার কেওনঝড়ে মৃত দিদির কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হলেন ভাই জিতু মুন্ডা।
  • দিদির অ্যাকাউন্টে থাকা ২০ হাজার টাকা তুলতে গত ৩ মাস ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন তিনি।
  • ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের অমানবিক আচরণ ও ‘অ্যাকাউন্টধারীকে আসতে হবে’ এমন অনড় দাবির জেরে এই পদক্ষেপ।
  • অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *