ভবানীপুরে মমতার ‘মহাপতন’, শুভেন্দুর হাতে গড় হারিয়ে গদিচ্যুত তৃণমূল!

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৬ সালের ৪ মে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিল বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক এসেছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় ভবানীপুর থেকে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫,১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরের এই জয় শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অমিত শাহের তোপ ও শুভেন্দুর ‘কথা রাখা’
ভবানীপুরের এই জয় নিশ্চিত হতেই উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার মধ্যরাতে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ ভবানীপুরের মানুষকে কুর্নিশ জানিয়ে একে ‘অরাজক শাসনের অবসান’ বলে অভিহিত করেছেন। শাহের মতে, এই জনাদেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বাংলার মানুষ আর বর্তমান শাসনব্যবস্থায় আস্থা রাখছেন না। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনী ময়দানে পরাজিত করে ‘প্রাক্তন’ করার লক্ষ্য পূরণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমোহিনী প্রকল্পের চেয়েও কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ শাসনের দাবি এই নির্বাচনে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
কারচুপির অভিযোগ মমতার, নয়া সমীকরণের পথে বাংলা
পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় বিজেপি শতাধিক আসনে ‘ভোট লুট’ করেছে। এই জয়কে ‘অনৈতিক’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ যাই হোক না কেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাইটার্স বিল্ডিং থেকে নবান্ন হয়ে বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে, ভবানীপুরের ফল তারই জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। কলকাতার বুকেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় ঘাসফুল শিবিরের জন্য এক চরম অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
