ভবানীপুরে হারের পর ইস্তফায় অনীহা মমতার, সাংবিধানিক রীতির কথা মনে করিয়ে দিলেন শুভেন্দু!

২০২১ সালে নন্দীগ্রামের পর ২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুর— টানা দ্বিতীয়বার শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের খাসতালুকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারের পর রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে এই হারের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার অনড় জেদ, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় এক নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি করেছে।
পরাজয় ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী ১৫,১০৫ ভোটের ব্যবধানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। এই ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী। পরাজয় মেনে না নিয়ে তিনি দাবি করেন, বিজেপি একক শক্তিতে নয় বরং কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট লুট করেছে। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নৈতিক জয় তাদেরই হয়েছে, তাই তিনি কোনোভাবেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না।
শুভেন্দুর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ও আইনি জট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে, তখন অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই বিষয়ে কোনো দীর্ঘ তর্কে না জড়িয়ে সাফ জানিয়েছেন, যা কিছু হবে তা দেশের সংবিধান মেনেই হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের পর শুভেন্দু এখন আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ের বল রাজভবনের কোর্টে ঠেলে দিতে চাইছেন।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সাংবিধানিক সঙ্কট
২০২১-এর ব্যবধানকে ছাপিয়ে এবার বড় ব্যবধানে ভবানীপুর হাতছাড়া হওয়া ঘাসফুল শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরাজয়ের পর একজন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না দেওয়ার ঘোষণা রাজ্যে বড় ধরনের সাংবিধানিক সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মমতার ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব আর অন্যদিকে শুভেন্দুর ‘সংবিধান’ পালনের হুঁশিয়ারি— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাংলার রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
