ভয়মুক্ত ভোট দিতে উৎসবের মেজাজে বুথে যাওয়ার ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। নদীয়ার কৃষ্ণনগর প্রশাসনিক ভবনে জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভোটপ্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরয়াল। জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নৃপেন সিং-এর উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও বুথের সুরক্ষা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে আতঙ্ক ও আইনি সমাধান
নদীয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২ লক্ষ ৮ হাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখিয়েছেন সিইও। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিচারাধীন।
- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
- বাদ পড়া ভোটারদের আপিল শুনানির জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্ব নেবেন।
- পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে যাতে কোনো যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
সীমান্ত সুরক্ষা ও নিশ্ছিদ্র নজরদারি
নদীয়া জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা এবার কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার ২২২ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ২৩.৬ কিলোমিটার এলাকা এখনো কাঁটাতারহীন, যার একটি বড় অংশ নদীপথ। অনুপ্রবেশ ও নাশকতামূলক কাজ রুখতে কমিশন বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:
- সীমান্তবর্তী এলাকায় নাকা চেকিং ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে।
- ১০ কিলোমিটার নদীপথে বিশেষ পেট্রোলিং-এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি জোরদার করা হবে।
নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান
রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে অভয় দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তিনি বলেন, মানুষ যেন কোনো ভয় বা হুমকির তোয়াক্কা না করে ভোটকেন্দ্রে যান। তাঁর কথায়, “মানুষ যাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপে যাওয়ার মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।” স্পর্শকাতর বা ‘ক্রিটিকাল’ বুথ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বিডিও, অবজারভার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ইনপুট নেওয়া হচ্ছে যা নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত করা হবে।
এক ঝলকে
- মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরয়াল কৃষ্ণনগরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
- ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ২ লক্ষ ৮ হাজার নাম নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে।
- সীমান্তের ২৩.৬ কিলোমিটার কাঁটাতারহীন এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।
- নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরি করতে দুর্গাপূজার মণ্ডপের মতো স্বতঃস্ফূর্ততার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচনের ৭-৮ দিন আগে স্পর্শকাতর বুথের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
