ভরাডুবির দায় কার, তৃণমূলের অন্দরে এবার সরাসরি অভিষেকের দিকে আঙুল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছর পর ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই অপ্রত্যাশিত হারের পর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র গৃহযুদ্ধ। পরাজয়ের পর দলের কর্মী-সমর্থক ও শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে একটি ‘কর্পোরেট হাউসের’ মতো পরিচালনা করেছেন, যার ফলে তৃণমূল সাধারণ মানুষের নাড়ি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
অভিষেক ও আই-প্যাক নিয়ে চরম অসন্তোষ
দলের অভিজ্ঞ নেতাদের একাংশ মনে করছেন, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণই দলের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মালদহের প্রবীণ নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছেন, একজনের একগুঁয়েমির কারণে দল আজ ধ্বংসের মুখে। পাশাপাশি, আই-প্যাক কর্মীদের ‘রাজকীয়’ চালচলন এবং তৃণমূলের পুরনো আবেগ বুঝতে না পারার বিষয়টিকেও পরাজয়ের জন্য ৯৮ শতাংশ দায়ী করা হচ্ছে।
টাকা নিয়ে টিকিট দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, আই-প্যাক অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিলি করেছে। অনেক প্রভাবশালী নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট সংস্থাকে টাকা দিতে না পারায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এমনকি রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রাক্তন সদস্য মনোজ তিওয়ারি থেকে শুরু করে রাজ চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বরা রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দলের অভ্যন্তরে এই গণবিদ্রোহ সামাল দিতে তৃণমূল ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। দলের চারজন মুখপাত্র ও নেতাকে ‘শো-কজ’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের ধরনে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন না এলে দলের পুরোনো কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হারানো বিশ্বাস ফিরে পাওয়া কঠিন হবে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ও ক্ষমতা থেকে বিদায়।
- পরাজয়ের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আই-প্যাককে সরাসরি দায়ী করছেন অনেক নেতা।
- কর্মীদের সাথে দূরত্ব তৈরি, অর্থের বিনিময়ে টিকিট প্রদান এবং কর্পোরেট ধাঁচে দল চালানোর অভিযোগ।
- কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীসহ চার নেতাকে দলবিরোধী বক্তব্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ।
