ভরাডুবির পর কি তবে বঙ্গে নতুন সমীকরণ, এবার ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার ডাক মমতার!

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে হারের পর এবার জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় শাসনে থাকার পর তৃণমূলের এই নজিরবিহীন বিপর্যয় রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ
নির্বাচনে পরাজয়ের দায় সরাসরি স্বীকার না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্বাচন কমিশনকে। তাঁর দাবি, কমিশন সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গোপন সমঝোতা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ভোট লুঠের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি কড়া ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন।
জাতীয় স্তরে সংহতির প্রয়াস
এই বিপর্যয়ের আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বুধবার অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর মমতা এখন জাতীয় রাজনীতিতে নিজের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকেই মূল হাতিয়ার করতে চাইছেন।
বঙ্গে বিরোধী ঐক্যের ভবিষ্যৎ
রাজ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূলের এই জোট-প্রীতি নতুন জল্পনার সৃষ্টি করেছে। রাজ্যে এতদিন কংগ্রেস ও বামেরা তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় শিবিরের বিরুদ্ধেই লড়াই করেছে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম রাজ্যে এক মঞ্চে আসবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, রাজ্যে তৃণমূলের এই বিপর্যয় বিজেপি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন কোনো মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে, যার প্রভাব আগামী দিনের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হবে।
