ভরাডুবির পর বিরোধী ঐক্য চাঙ্গা করতে মমতার দিল্লি সফর, মোদীকে রুখতে কী স্ট্র্যাটেজি তৃণমূল সুপ্রিমোর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে জাতীয় স্তরে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামী ৬ই জুন দিল্লিতে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলে দেশজুড়ে বিরোধী শিবিরের বিপর্যয় এবং বিভিন্ন রাজ্যে এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, নির্বাচনী ধাক্কার পর থেকেই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। এমনকি, ভোট চুরির অভিযোগে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এই দিল্লি সফর ও কংগ্রেসের সঙ্গে বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে।
বদলে যাওয়া সমীকরণ ও জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন
জাতীয় স্তরে এই বিরোধী বৈঠককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট দেখা যাচ্ছে। কেরলে বামেদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে পড়েছে, অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে জনগণ ‘টিভিকে’র ওপর ভরসা রেখেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস রাতারাতি ডিএমকে-র সঙ্গে জোট ভেঙে টিভিকে-র হাত ধরায় দুই শিবিরের মধ্যে তিক্ততা চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে, আসন্ন বৈঠকে ডিএমকে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি, কেরলে শোচনীয় পরাজয়ের পর সিপিআই(এম) এই সর্বভারতীয় জোটে পুনরায় সামিল হবে কি না, তা-ও এখনও অনিশ্চিত। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিভিকে-র এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বেশ প্রবল। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর বিরোধী শিবিরকে কতটা একসূত্রে বাঁধতে পারে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই বলে কটাক্ষ বিজেপির
তৃণমূল কংগ্রেসের এই দিল্লি সফর ও কংগ্রেসের সঙ্গে বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন যে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে যারা বারবার কংগ্রেসের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিল, আজ রাজ্যে নিজেদের শোচনীয় পরাজয়ের পর তারাই রাজনৈতিক অস্তিত্ব টেকাতে দিল্লির নেতাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। বাংলায় যারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, পরাজয়ের ধাক্কায় এখন তারাই দিল্লিতে গিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। সমস্ত জল্পনা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে আগামী ৬ জুনের এই বৈঠক দেশের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
