ভাইজাগ স্টিল প্ল্যান্টে ১৬০০ ডিগ্রির ফুটন্ত লোহা ছিটকে মর্মান্তিক মৃত্যু ৮ শ্রমিকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের শিল্পক্ষেত্রে ফের এক ভয়াবহ বিপর্যয়। সোমবার বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম লিমিটেড পরিচালিত ভাইজাগ স্টিল প্ল্যান্টে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন শ্রমিকের জীবন্ত ঝলসে মৃত্যু হয়েছে। কারখানার ভেতরে থাকা প্রায় ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফুটন্ত তরল লোহা বোঝাই এক বিশাল ল্যাডল বা পাত্র ধসে পড়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক কারখানার ভেতরে আটকে পড়েন এবং ১০০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় অন্তত ৬ জন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
যান্ত্রিক ত্রুটিতেই এই ভয়াবহ পরিণতি
জানা গিয়েছে, প্ল্যান্টের স্টিল মেল্টিং শপ এবং কন্টিনিউয়াস কাস্টিং ডিপার্টমেন্টে পুরোদমে উৎপাদন চলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ক্রেনের সাহায্যে কয়েকশো টন ওজনের ফুটন্ত তরল লোহা বোঝাই ল্যাডল ওপরের দিকে তোলার সময় আচমকা তাতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিকট শব্দে ল্যাডলটি ফেটে ধসে পড়লে ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ফুটন্ত তরল ইস্পাত আগ্নেয়গিরির লাভার মতো চারপাশের মেঝেতে এবং কর্মরত শ্রমিকদের ওপর ছিটকে পড়ে। গলিত লোহার তীব্র উত্তাপ ও আগুনের হলকায় গোটা এলাকা নরককুণ্ডে পরিণত হওয়ায় শ্রমিকরা পালানোর কোনো সুযোগ পাননি। কারখানার নিজস্ব দমকল বাহিনী দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকাজ চালায়। এই ঘটনার কারণে শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
শোকপ্রকাশ এবং কড়া পদক্ষেপের দাবি
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নায়ডু দ্রুত উদ্ধারকাজ ও আহতদের উন্নত চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, শ্রমিক সংগঠন ‘সিটু’ এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং নিহতদের পরিবারপিছু ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে কারখানার সেফটি অডিট ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং তা ২০১২ সালে এই প্ল্যান্টেরই ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ভয়াবহ স্মৃতিকে পুনরায় উসকে দিয়েছে। ভবিষ্যতে কারখানার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি আরও কঠোর না হলে শ্রমিক অসন্তোষ এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মতো বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
