ভাই আসার আনন্দের মাঝেই বোনের নৃশংস পরিণতি! ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত ‘ডায়াল-১১২’-এর কনস্টেবল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গোরখপুর: এক বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ভাই কোল আলো করে জন্ম নিল, কিন্তু তাকে বুকে টেনে নেওয়ার আগেই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল ১০ বছরের বোন। রাখি বন্ধনের আগে পরিবারের আনন্দ নিমেষেই রূপ নিল বিষাদে। আর এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির নেপথ্যে উঠে এলো এক আইনরক্ষকেরই পৈশাচিক চেহারা!
উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে ডায়াল-১১২-এর এক পুলিশ কনস্টেবল অভিষেক যাদবের বিরুদ্ধে ১০ বছরের এক নিষ্পাপ বালিকাকে অপহরণ, পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মেয়েটির শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ওপর চরম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৮শে জুলাই রাতে। হাসপাতাল থেকে বোনকে খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বাইকে তুলে নেয় অভিযুক্ত কনস্টেবল। নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর পর তার হাত বেঁধে লাশ নদীতে ফেলে দেয় সে। প্রমাণ মেটাতে থানায় ফিরে ঠান্ডা মাথায় রক্তমাখা ইউনিফর্ম পরিষ্কারও করে ফেলে ওই পুলিশকর্মী।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে বাইকের নম্বর সনাক্ত করে অভিযুক্ত অভিষেক যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পর নদী থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির হাত বাঁধা মরদেহ। পুলিশ সূত্রের খবর, অতীতেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জেলে গিয়েছিল এই কনস্টেবল।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর অভিযুক্তকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘পকসো’ (POCSO) সহ জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) মামলা রুজু করা হচ্ছে। হাসপাতালের সামনে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে মারধরও করে। বর্তমানে ঘাতক কনস্টেবলের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে গোটা এলাকা।
