ভাগচাষি থেকে কোটি টাকার সাম্রাজ্য, ইলামবাজারে তৃণমূল নেতা রবি মুর্মুকে নিয়ে তুঙ্গে চর্চা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়ছে। এই আবহে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বীরভূম জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু। একটা সময় যাঁর পরিবার অন্যের জমিতে ভাগচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত, আজ তাঁর বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান দেখে চোখ কপালে উঠছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আদি বাড়ির জীর্ণ দশা ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা
ইলামবাজারের বনশুলডাঙা গ্রামে রবি মুর্মুর আদি বাড়ি। জঙ্গলমহল লাগোয়া সেই গ্রামে এখনও বাস করেন তাঁর দাদা ও বৌদি। বাড়ির একাংশ এখনও কাঁচা, কোথাও ভাঙা দেওয়াল, আবার কোথাও টিনের চাল। পরিবারের সদস্যরা এখনও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং কেউ কেউ অন্যের জমিতে ভাগচাষের কাজের সঙ্গেও যুক্ত। অথচ, ২০১৪ সালের পর থেকে হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে রবি মুর্মুর জীবনযাত্রা। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমানে তিনি প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে গ্রামে আসেন। শুধু তাই নয়, শান্তিনিকেতনের সীমান্তপল্লীতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি। বোলপুর ও ইলামবাজারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তার ধারে বিঘার পর বিঘা জমি, বনভিলা ও শ্রীচন্দ্রপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে জমি ও রিসর্ট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তের দাবি ও রাজনৈতিক শোরগোল
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিপুল সম্পত্তির বেশিরভাগই সরাসরি নিজের নামে না রেখে পরিচিত ও ঘনিষ্ঠদের নামে বেনামে রাখা রয়েছে। আচমকা এই অর্থনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে সরকারি পদের অপব্যবহার ও বেআইনি কারবারের যোগ রয়েছে বলে দাবি বিরোধী শিবিরের। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার সুবাদে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, কাটমানি এবং একাধিক বেআইনি বালিঘাটের সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই বিপুল অর্থ উপার্জন করা হয়েছে। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পুলিশ প্রশাসন ও আয়কর দপ্তরের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে রবি মুর্মুর প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো জবাব মেলেনি। রাজনৈতিক প্রভাব নাকি অন্য কোনো উৎস, ভাগচাষির পরিবার থেকে কোটিপতি হওয়ার এই রহস্যের উত্তর খুঁজছে ইলামবাজারের রাজনৈতিক মহল।
