ভাঙড়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া লালবাজার, ৬৭ অফিসারকে পাঠিয়ে কড়া বার্তা পুলিশের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজনৈতিক সংঘাতের সমার্থক হয়ে ওঠা ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করল কলকাতা পুলিশ। দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে ভাঙড় ডিভিশনের বিভিন্ন থানায় ৬৭ জন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীকে বদলি করা হয়েছে। লালবাজারের এই ব্যাপক রদবদলকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
সন্দেহের তালিকায় শান্তনু-ঘনিষ্ঠরা
এই বদলির তালিকায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পুলিশ আধিকারিক রুহুল আমিন আলি শাকে হেড কোয়ার্টার থেকে সরিয়ে ভাঙড় ডিভিশনে পাঠানো হয়েছে। রুহুল আমিন এতদিন কলকাতা পুলিশ ওয়েলফেয়ারের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সরাসরি শান্তনু সিনহার নির্দেশেই কাজ করতেন। শুধু তিনিই নন, পুলিশ ওয়েলফেয়ারের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও আধিকারিককে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন থানায়। মূলত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাহিনী বাড়িয়ে ভাঙড়ে নজরদারি বৃদ্ধি
ভাঙড় ডিভিশনের অধীনে থাকা ৬টি থানার বিপুল ভৌগোলিক এলাকায় পুলিশকর্মীর দীর্ঘদিনের ঘাটতি ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ১১ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ১৭ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর, ৩৭ জন কনস্টেবল এবং অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে মোট ৬৭ জনকে এই ডিভিশনে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাঙড়ে পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আনা। আসন্ন দিনগুলোতে এই নতুন টিম ভাঙড়ের অস্থিরতা কমাতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
