ভাঙা চাতালের একচালা ঘর থেকে রাজভবন, রাজনীতির চেনা ছক বদলে মন্ত্রিত্বে পরিচারিকা কলিতা – এবেলা

ভাঙা চাতালের একচালা ঘর থেকে রাজভবন, রাজনীতির চেনা ছক বদলে মন্ত্রিত্বে পরিচারিকা কলিতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোটের টিকিট পাওয়াই ছিল তাঁর কাছে এক চরম বিস্ময়। আর সেই বিস্ময়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সোজা মন্ত্রিত্বের ফোন! খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের পর্দা নয়, নিজের জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকে সঙ্গী করে আউশগ্রামের একচালা বাড়ি থেকে আজ রাজভবনের শপথকক্ষে পৌঁছে গিয়েছেন কলিতা মাঝি। রাজনীতির চেনা ক্ষমতার অলিন্দ এবং পারিবারিক আভিজাত্যের চেনা ছককে এক লহমায় ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এক দরিদ্র পরিচারিকার এই উত্তরণ। ফোন পাওয়ার পর নিজের কানকে বিশ্বাস করতে না পেরে এখনও তাঁর গলায় একটাই বিস্ময়, “সত্যিই মন্ত্রী হলাম?”

কঠিন বাস্তব ও রাজনীতির ময়দান

কলিতা মাঝির জীবনের লড়াইটা আর পাঁচটা সাধারণ দরিদ্র পরিবারের নারীর মতোই ছিল। অত্যন্ত কম বয়সে বিয়ে, শ্বশুরবাড়ির চরম আর্থিক অনটন এবং তারপর সংসারের হাল ধরতে অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ শুরু করা—এই ছিল তাঁর নিত্যদিনের জীবন। তবে অভাবের মধ্যেও তাঁর অনন্য গুণ ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা। এলাকার পিছিয়ে পড়া দরিদ্র নারীদের যে কোনও বিপদে-আপদে সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এই পরোপকারী মানসিকতাই তাঁকে ধীরে ধীরে রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে আসে। বাংলায় যখন বিজেপির হয়ে কথা বলাও কঠিন ছিল, সেই সময় থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সমস্ত কাজ সেরে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বসতেন, নেতাদের কথা শুনতেন এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা রাজনৈতিক স্তরে তুলে ধরতেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার টিকিট পেয়ে পরাজিত হলেও দমে যাননি, বরং মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও বাড়িয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনে আউশগ্রামের বিধায়িকা নির্বাচিত হন।

তৃণমূল স্তরের লড়াইয়ের স্বীকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

কোন বিশেষ গুণে একজন পরিচারিকাকে তুলে এনে মন্ত্রী করল বিজেপি, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর বিশ্লেষণ চলছে। মূলত দলমতনির্বিশেষে কলিতার এই সততা, নিরলস পরিশ্রম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাটির কাছাকাছি থাকাই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রকৃত প্রান্তিক প্রতিনিধিকে মন্ত্রী করার মাধ্যমে দলটির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব তৃণমূল স্তরের কর্মীদের কাছে একটি বড় বার্তা দিল। এর ফলে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রতি আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনই নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নেও এটি বড় প্রভাব ফেলবে। নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যে আবেগাপ্লুত আউশগ্রামের বিধায়িকা তথা বর্তমান মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পদ পেলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি আগের মতোই থাকবেন এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানেই নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *