ভারতেও ওবেসিটির বিরাট সংকট! ৪ কোটির বেশি শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক সতর্কবার্তা ICMR-এর – এবেলা

ভারতেও ওবেসিটির বিরাট সংকট! ৪ কোটির বেশি শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক সতর্কবার্তা ICMR-এর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অ্যাটলাস ২০২৬’-এর উদ্বেগজনক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটির সমস্যায় ভুগছে। এই পরিস্থিতির লাগাম টানতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচাতে সম্প্রতি একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন (ICMR-NIN) তাদের ‘লেটস ফিক্স আওয়ার ফুড’ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ নীতি সামনে এনেছে।

ICMR-এর প্রস্তাবিত মূল পদক্ষেপগুলি:

  • নিউট্রিশন লেবেলিং: অস্বাস্থ্যকর ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের ঠিক সামনেই অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা চর্বির মাত্রা স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে উল্লেখ করতে হবে, যাতে অভিভাবকরা সহজেই বুঝতে পারেন।
  • বিজ্ঞাপনে কড়াকড়ি: শিশুদের স্বাস্থ্য ও মনস্তত্ত্বকে ফোকাস করে জাঙ্ক ফুডের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবারে কর (Health Tax): তামাক বা অ্যালকোহলের মতো ক্ষতিকারক পণ্যের মতো অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবারের উপর বাড়তি কর বা ‘হেলথ ট্যাক্স’ বসানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে এগুলির দাম বাড়ে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার সুলভ হয়।
  • স্কুল চত্বরে নিষেধাজ্ঞা: ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)-এর নিয়ম কঠোর করে স্কুল ক্যাম্পাস এবং তার ৫০ মিটারের মধ্যে জাঙ্ক ফুড বিক্রি বা বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক?

পরিসংখ্যান বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে যত সংখ্যক শিশু ওবেসিটিতে আক্রান্ত হবে, তার ১১ শতাংশই হবে ভারতীয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠে খেলাধুলার জায়গা কমে যাওয়া এবং মোবাইল-টেলিভিশনে স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে। অল্প বয়সেই ওবেসিটির জেরে শিশুদের শরীরে ফ্যাটি লিভার, টাইপ-২ ডায়াবিটিস এবং নানা গুরুতর জটিল রোগ বাসা বাঁধছে, যা তাদের সামগ্রিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

স্কুল ও পরিবারের জন্য বিশেষ ভূমিকা:

শিশুদের এই গ্রাস থেকে বাঁচাতে স্কুলগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে বলা হয়েছে। স্কুলের ক্যান্টিন ও আশেপাশে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করতে হবে। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য ‘নিট-এস’ (NEAT-S) নামক একটি মূল্যায়ন টুলও চালু করেছে কনসোর্টিয়াম, যার মাধ্যমে স্কুলগুলি তাদের ক্যাম্পাসের খাদ্য পরিবেশ নিজেড়াই যাচাই করতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *