ভারতের মারে ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিতেই এবার ইরানি যুদ্ধবিমান! পাক-ইরান গোপন আঁতাঁত ফাঁস? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা দীর্ঘ দেড় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আপাতত বিরতির পথে থাকলেও, নতুন এক বিস্ফোরক তথ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। একটি মার্কিন সংবাদসংস্থার দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের সংকটময় সময়ে পাকিস্তানের ‘নূর খান’ বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে ইরান। অথচ এই পাকিস্তানই দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। ফলে ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাওয়ালপিন্ডিতে ইরানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি
মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরান তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত নূর খান বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে আরসি ১৩০ রিকনাইসেন্স এবং সি ১৩০ হারকিউলিস বিমানও রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে এই ঘাঁটিটি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তা মেরামত করা হলেও, সেই বিতর্কিত ঘাঁটিতেই এখন ইরানি সামরিক উপস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ইরান
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আশঙ্কা ছিল যুদ্ধবিরতি চললেও আমেরিকা যেকোনো সময় অতর্কিত হামলা চালাতে পারে। সেই সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের আকাশপথের সম্পদ রক্ষা করতেই তারা বিমানগুলো পাকিস্তানে সরিয়ে ফেলে। এমনকি কিছু বিমান আফগানিস্তানেও মোতায়েন করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় দেশই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটন সরকারিভাবে নীরব থাকলেও মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন।
অনিশ্চয়তার মুখে শান্তিপ্রক্রিয়া
ইরানের দেওয়া ১৪ দফা শান্তিপ্রস্তাব আমেরিকা খারিজ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে পড়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে এবং হরমুজ প্রণালীতে কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ মেনে নেবে না। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি, তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো প্রস্তাব না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই উত্তপ্ত আবহে পাকিস্তানের এই বিতর্কিত অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
