‘ভারতের মুসলিমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধে যাব’, ওপার বাংলায় উস্কানিমূলক বার্তার ঝড়!

‘ভারতের মুসলিমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধে যাব’, ওপার বাংলায় উস্কানিমূলক বার্তার ঝড়!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের পর থেকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ওপার বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি বিরোধী জমায়েত থেকে একের পর এক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে জনৈক বিক্ষোভকারীকে সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং যুদ্ধের ডাক দিতে শোনা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

উস্কানিমূলক বক্তব্য ও জিহাদের ডাক

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জনৈক ব্যক্তি দাবি করছেন যে ভারতের মুসলিমরা অদূর ভবিষ্যতে স্বাধীনতা ঘোষণা করবে এবং সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই যুদ্ধে শামিল হতে ভারতে প্রবেশ করবে। ভাষণে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, মুসলিমদের ওপর কোনো ধরনের অন্যায় বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে আঘাত আসলে তা বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের চরমপন্থী বার্তা বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে, যা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক মহলে নালিশের হুঁশিয়ারি

একই ইস্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনেও একটি বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজিত হয়। সেখানে ছাত্রনেতাদের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে নাগরিকদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের সংখ্যা জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি, যা নির্বাচনের বৈধতাকে ক্ষুণ্ণ করে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁরা ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে কোণঠাসা করতে সার্ক, ওআইসি এবং রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রসারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণার ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *