ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ছুঁতে পারে ইন্দোনেশিয়াকে, জনগণনা নিয়ে বড় মন্তব্য কিরেন রিজিজু-র – এবেলা

ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা ছুঁতে পারে ইন্দোনেশিয়াকে, জনগণনা নিয়ে বড় মন্তব্য কিরেন রিজিজু-র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের আগামী জনশুমারি বা আদমশুমারির পর দেশের মুসলিম জনসংখ্যার চিত্রটি বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু শনিবার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, আসন্ন জনশুমারির তথ্যে দেখা যেতে পারে যে ভারতের মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ইন্দোনেশিয়ার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনঅধ্যুষিত দেশ হিসেবে পরিচিত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, জনসংখ্যার আকার যাই হোক না কেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকই সমানভাবে ভারতীয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ভারতের সংবিধানের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের অধিকার সমান এবং ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে কারও সাথে কোনো বৈষম্য করা হয় না।

সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও পারসি সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ

বক্তব্য চলাকালীন মন্ত্রী ভারতের পারসি সম্প্রদায়ের ক্রমাগত কমতে থাকা জনসংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বর্তমানে দেশটিতে এই সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা মাত্র ৫২,০০০ থেকে ৫৫,০০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। পারসিদের ভারতের ক্ষুদ্রতম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব রক্ষা এবং সংখ্যাগত হ্রাস রোধে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

একই সঙ্গে তিনি দেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দেন। রিজিজু দাবি করেন, কিছু রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে অহেতুক ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি

সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রটি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। সরকারের তৃতীয় মেয়াদে এই লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ‘সবকা বিশ্বাস’ এবং ‘সবকা প্রয়াস’ যোগ করে প্রতিটি ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে, যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে অপরিহার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *