ভারতে প্রথম চালকবিহীন পড ট্যাক্সি প্রকল্পের সূচনা, বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে শুরু নতুন যুগ

ভারতে প্রথম চালকবিহীন পড ট্যাক্সি প্রকল্পের সূচনা, বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে শুরু নতুন যুগ

পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়ে ভারতে এই প্রথম আত্মপ্রকাশ করল অত্যাধুনিক চালকবিহীন ‘পড ট্যাক্সি’। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মুম্বইয়ের কুর্লা ও বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্সের (বিকেসি) মধ্যে সংযোগকারী এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ভূমিপুজো সম্পন্ন করেন। সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই ব্যবস্থা ভারতের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুম্বইয়ের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র বিকেসি-তে যানজট নিরসনে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর হবে। প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৮.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে মোট ২২টি স্টেশন তৈরি করা হবে। প্রতিটি স্টেশন প্রায় ২০০ মিটার অন্তর অবস্থিত হবে। প্রথম ধাপে কুর্লা থেকে বান্দ্রা (পূর্ব) পর্যন্ত ৩.৩৬ কিলোমিটার পথে এই পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই পড ট্যাক্সিগুলি অত্যন্ত উন্নত। বিশেষ ট্র্যাকে চলতে সক্ষম প্রতিটি পডে এক সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬ জন যাত্রী বসতে পারবেন। গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার ঝক্কি এড়াতে প্রতি ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড অন্তর যাত্রীরা পড পাবেন। যাত্রীদের নির্বাচিত নির্দিষ্ট স্টেশনেই এটি থামবে, যা গন্তব্যে পৌঁছানোকে করবে আরও দ্রুত ও আরামদায়ক।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় ২০৩১ সালের মধ্যে এই রুটে প্রতিদিন ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি যাত্রী পরিবহণের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। মুম্বইয়ের এই মডেল সফল হলে ভারতের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলোতেও পড ট্যাক্সি চালুর পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষত কলকাতার মতো জনবহুল শহরে, যেখানে যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা, সেখানে এই আধুনিক প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমাতে পারে।

পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে তৈরি এই প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যানজটমুক্ত যাতায়াত এবং সময় সাশ্রয়—এই দুই মূল মন্ত্রকে পাথেয় করে ভারতের পরিবহণ মানচিত্র বদলে দিতে প্রস্তুত চালকবিহীন পড ট্যাক্সি। মুম্বইয়ের রাস্তায় এর সাফল্যের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *