ভুল বোঝাবুঝির মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ কুলতলি, গণপিটুনিতে প্রাণ গেল কেরালার পরিযায়ী শ্রমিকের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থানার সানকিজাহান এলাকায় চোর সন্দেহে কেরালার এক পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাস্তা চিনতে না পারা এবং ভাষার দূরত্বের কারণে সৃষ্ট একটি ভুল বোঝাবুঝি রূপ নিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডে। এই ঘটনায় তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্যজুড়ে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই নাবালকসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।
ভাষার প্রাচীর ও গণপিটুনির নিষ্ঠুরতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেরালা থেকে আসা ওই পরিযায়ী শ্রমিক কুলতলির সানকিজাহান এলাকায় তাঁর এক পরিচিতের বাড়িতে এসেছিলেন। গত মঙ্গলবার সকালে তিনি স্থানীয় একটি বাজারে যান। কিন্তু এলাকা অচেনা হওয়ায় ভুল করে অন্য একটি পাড়ায় ঢুকে পড়েন তিনি। কেরালার বাসিন্দা হওয়ায় তিনি বাংলা ভাষা জানতেন না।
অপরিচিত এক ব্যক্তিকে এলাকায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরতে দেখে গ্রামবাসীদের মনে চোর সন্দেহের দানা বাঁধে। ভাষা না বুঝতে পারার কারণে ওই ব্যক্তি নিজের পরিচয় বা সেখানে আসার উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বোঝাতে পারেননি। এর পরেই উত্তেজিত জনতা তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে অমানবিক অত্যাচার শুরু করে। মারধরের এই নৃশংস ভিডিওটি পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনি পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বর্বরোচিত ঘটনার পরেই তৎপরতা দেখিয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট সাতজনকে আটক করে এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে দুই নাবালকও রয়েছে। রবিবারই তাদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এক বিপজ্জনক প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। ভিনরাজ্যের একজন শ্রমিকের এভাবে করুণ মৃত্যুর জেরে আন্তঃরাজ্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পাশাপাশি, সামাজিক স্তরে পরমতসহিষ্ণুতা এবং গুজবের ভিত্তিতে হিংসা ছড়ানোর এই মানসিকতা আগামী দিনে চরম সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
