ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তৃণমূল

ভোটার তালিকা নিয়ে সংঘাত তুঙ্গে, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষুব্ধ তৃণমূল

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনারের আচরণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত এক নতুন মাত্রা নিয়েছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

বৈঠকের নেপথ্যে মূল কারণ

তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে এবং এর পেছনে সঠিক যুক্তি জানতে এদিন নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন শাসক দলের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। এই দলে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মানেকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলে।

কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

বৈঠক শেষে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, কমিশনার তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য পেশ করার পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়ে মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে ‘গেট লস্ট’ বলে কার্যত বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগেও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একই ধরণের অভিযোগ তুলেছিলেন কমিশনারের বিরুদ্ধে।

৯১ লক্ষ নাম বাদ ও পরিসংখ্যানের গড়মিল

ভোটের আগে ভোটার তালিকার এই পরিসংখ্যান নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

  • গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৬ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল।
  • জানানো হয়েছিল আরও ৬০ লক্ষ নাম যাচাই বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর পর্যায়ে রয়েছে।
  • পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই ৬০ লক্ষের মধ্যে থেকেও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি নাম বাতিল করা হয়েছে।
  • সব মিলিয়ে বর্তমানে বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লক্ষে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব বিশ্লেষণ

তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তথ্য যাচাইয়ের যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে। তাদের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আঁতাত বা ষড়যন্ত্র কাজ করছে। ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার এই চেষ্টা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে শাসক দল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে বারবার দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠছে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও।

একঝলকে

  • ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু: ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়া।
  • প্রতিনিধি দল: ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মানেকা গুরুস্বামী এবং সাকেত গোখলে।
  • মূল অভিযোগ: নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তৃণমূল প্রতিনিধিদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং তাঁদের কথা না শুনেই বের করে দিয়েছেন।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: বিধানসভা নির্বাচনের আগে কমিশন বনাম তৃণমূল সংঘাত চরমে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *