ভোটের কালি শুকানোর আগেই তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন, ‘পিসি-ভাইপো’ খোঁচা দিলীপ ঘোষের – এবেলা

ভোটের কালি শুকানোর আগেই তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন, ‘পিসি-ভাইপো’ খোঁচা দিলীপ ঘোষের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাস কাটতে না কাটতেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নজিরবিহীন ওলটপালট শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত এক বড়সড় ভাঙনে রূপ নিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়কদের হাত ধরে এবার জন্ম নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘ভাল তৃণমূল’। এই আকস্মিক ভাঙন এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ নিয়ে এবার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

দলীয় এই চরম সংকটকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কলকাতার একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত এখন গভীর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ভোটের কালি আঙুল থেকে ওঠার আগেই তৃণমূল দলটাই উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

‘ভাল তৃণমূল’ গঠন ও নতুন সমীকরণ

তৃণমূলের অন্দরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধের জেরে সম্প্রতি বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর পরপরই তাঁরা ‘ভাল তৃণমূল’ নামে নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। চমকপ্রদভাবে, ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে উল্লেখ করে দিলীপ ঘোষ খোঁচা দিয়ে বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম তৃণমূল হারলে দলটাই আর থাকবে না, শুধু পিসি আর ভাইপো থেকে যাবে। এখন ঠিক সেটাই ঘটছে।” তাঁর দাবি, জয়ী বিধায়ক ও সাংসদদের একটি বড় অংশই এখন আর মূল দলের সঙ্গে নেই।

গ্রেফতারি ও গণবিক্ষোভের প্রভাব

দলের ভাঙনের পাশাপাশি টলিউড ও দুর্নীতি ইস্যুতেও শাসকদলকে নিশানা করেছেন দিলীপ ঘোষ। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে একদল মানুষ শোষণ করেছে এবং এখন সময় এসেছে ক্ষতিগ্রস্তদের সামনে এসে অভিযোগ জানানোর। অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে আমজনতার ডিম ছোড়ার ঘটনাকে তিনি ‘জনগণের অভিনব প্রতিবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরপরই শাসকদলের এই অভূতপূর্ব ভাঙন এবং নতুন দল গঠন রাজ্যের আইনসভা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে চলেছে। বিধায়কদের এই দলবদল এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে আগামী দিনে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে শাসক শিবিরের আধিপত্য এবং শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *