ভোটের প্রতিশ্রুতি রাখলেন শুভেন্দু, সরকারি চাকরিতে একধাক্কায় ৫ বছর বাড়ল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়ানো হবে— নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি অবশেষে পূরণ করল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। রবিবার রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরির প্রতিটি স্তরেই আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সরাসরি ৫ বছর করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কোন গ্রুপে আবেদনের বয়স কত হলো, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো।
বয়সসীমার নতুন সমীকরণ
নতুন সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রুপ ‘এ’ পদের চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪১ বছর। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘ব’ পদের জন্য প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৪৪ বছর বয়স পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের বড় অংশ যে দুটি স্তরে আবেদন করেন, সেই গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদের ক্ষেত্রে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর করা হয়েছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দীর্ঘদিন রাজ্যে বড় কোনো নিয়োগ না হওয়ায় বহু যুবক-যুবতী চাকরির পরীক্ষার বয়স পার করে ফেলেছিলেন। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতার কারণে বঞ্চিত এই চাকরিপ্রার্থীদের পুনর্বার সুযোগ করে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যজুড়ে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। অনেকেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এর কিছু মিশ্র প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় অনেক যোগ্য প্রার্থী ইতিমধ্যে পড়াশোনা ছেড়ে ব্যবসা বা বেসরকারি সংস্থায় যোগ দিয়েছেন, আবার অনেক মহিলা চাকরিপ্রার্থী এখন সংসারী। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ করে বয়স বাড়লেও, পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে পরীক্ষায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মধ্যে সংশয় ও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
